সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১২:১০ পিএম
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিক এবং উচ্চ ঘনত্বের দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজের এক বিশাল খনির সন্ধান পাওয়া গেছে সৌদি আরবের ঐতিহাসিক মদিনা অঞ্চলে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মদিনার জাবাল সাঈদ এলাকায় পরিচালিত সাম্প্রতিক ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধানে ভারী দুর্লভ উপাদান এবং আশাব্যঞ্জক ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন আকরিক সম্পদের মজুত চিহ্নিত হয়েছে।
এই বিশাল আবিষ্কারের কয়েক মাস আগে গত ২২ জুলাই রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি সচিব ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশটির পারমাণবিক ও খনিজ রূপকল্পে মার্কিন প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপিত হয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ওয়াশিংটন সফরের পর থেকে দুই দেশের কৌশলগত খনিজ অংশীদারত্ব নতুন রূপ লাভ করে। ওই ঐতিহাসিক সফরের ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খনি প্রতিষ্ঠান `মাআদেন` এবং মার্কিন বেসরকারি খনিজ কোম্পানি `এমপি মেটেরিয়ালস`-এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে ওঠে।
প্রস্তাবিত নতুন খনিজ প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট নির্মাণে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এই যৌথ শিল্প অবকাঠামোর মোট নির্মাণ ব্যয়ের ৪৯ শতাংশ অর্থায়ন করতে সম্মত হয়েছে, যার মাধ্যমে কৌশলগত খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত থাকবে। লোহিত সাগরের বন্দরনগরী জেদ্দা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাঈদ অঞ্চলটি আগে থেকেই বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান খনিজ মজুত ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত ছিল।
নতুন জরিপের পর এই প্রকল্প খনিজ মজুতের দিক থেকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন অবস্থান নিল। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশদ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জাবাল সাঈদ প্রকল্পে প্রায় পাঁচ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী দুর্লভ খনিজ রয়েছে। একই সাথে হালকা দুর্লভ খনিজের মজুত নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় তিন লাখ ৫৫ হাজার টন। কৌশলগত পারমাণবিক অবকাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম এই ভূগর্ভস্থ মজুতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা রিয়াদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তায় যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় সৌদি আরবের এই সামগ্রিক দুর্লভ খনিজ সম্পদের বর্তমান আর্থিক মূল্য আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা বিগত ২০১৮ সালের সরকারি মূল্যায়নের চেয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি। সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, মদিনার এই অঞ্চলটি ছাড়াও উন্নত অনুসন্ধান ধাপে থাকা আরও দুটি খনিজ বলয় চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের খনিজের অস্তিত্ব রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন