অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার তিনটি তেলবাহী বাণিজ্যিক ট্যাংকার থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দেশটির এই এলিট সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালির পূর্ব ও পশ্চিমাংশের অননুমোদিত বিকল্প নৌপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টাকালে তিনটি তেলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এরপরই সবগুলো জলযানকে নৌপথে তাৎক্ষণিকভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্যাংকারগুলো নিজেদের অবস্থান ও দিকনির্ণয় ব্যবস্থা অর্থাৎ নেভিগেশন ও পজিশনিং সিস্টেম সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছিল।
পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রমের চেষ্টা চালাচ্ছিল জাহাজগুলো।
ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার রেডিও সতর্কবার্তা পাঠানো হলেও তা পুরোপুরি উপেক্ষা করে জাহাজগুলো নিজেদের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা অব্যাহত রাখে।
পরবর্তীতে অননুমোদিত জলসীমায় সেগুলো বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়।
তবে আটক বা থামিয়ে দেওয়া তেলবাহী এই ট্যাংকারগুলোর সুনির্দিষ্ট নাম ও পরিচয়, কোন দেশের পতাকা বহন করে সেগুলো সাগরে ভাসছিল কিংবা এগুলোর নাবিক ও ক্রুদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কী, সে সম্পর্কে তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালিতে একটি তেল ট্যাংকারে ভিন্ন একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, একটি ছোট নৌকা ব্যবহার করে ওই তেলের জাহাজে দুটি পৃথক বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে সেই বিস্ফোরকগুলোর তীব্র বিস্ফোরণ ঘটলে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায় এবং নৌযানটি সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে সাগরে অচল হয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ক্ষতিগ্রস্ত ওই তেল ট্যাংকারটিকে ‘লুইস ১’ হিসেবে শনাক্ত করেছে।
ওমানের খাসাব উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় এই নাশকতামূলক হামলার ঘটনাটি ঘটে।
ইউকেএমটিও পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছে যে জাহাজের অগ্নিনির্বাপক দল দ্রুত তৎপর হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
জাহাজে অবস্থানরত নাবিক ও ক্রুদের সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন এবং সাগরে কোনো ধরনের ক্ষতিকর পরিবেশগত বা তেল দূষণের ঘটনা ঘটেনি।
প্রাথমিক জরুরি মেরামতের পর ট্যাংকারটি পুনরায় সচল হয়ে নিজের নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
তবে ওমান উপসাগর সংলগ্ন খাসাব উপকূলে সংঘটিত এই বিস্ফোরক হামলার সঙ্গে সরাসরি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা স্বতন্ত্র কোনো সূত্রে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন