শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬,

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কার আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কার আভাস

ছবি: সংগৃহীত

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। জনমত জরিপের তথ্য সঠিক হলে আগামী সপ্তাহে বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের দুই বছর পূর্ণ হতে চললেও তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখন সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি। এর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান সংঘাত ও জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয়। বর্তমানে তাঁর গড় জনসমর্থন নেমে এসেছে প্রায় ৩৭ শতাংশে।

জরিপকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

সিনেটে লড়াই অপেক্ষাকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও সেখানেও রিপাবলিকানদের আধিপত্য হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে জনমত জরিপের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হলেও এবার মার্কিন রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে একটি জোরালো নির্বাচনী ঢেউ বা পরিবর্তনের সুর স্পষ্ট। তবে এটি কেবল ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ঢেউ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আঘাত হানছে।

২০১৬ সালে ট্রাম্পের বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে উগ্র জাতীয়তাবাদ, জনতুষ্টিবাদ ও প্রচলিত মিত্রদের অবজ্ঞা করার যে রাজনৈতিক ধারা জোরদার হয়েছিল, গণতান্ত্রিক বিশ্বে তার কার্যকারিতা এখন গভীর প্রশ্নের মুখে।

নির্বাচনের আগে মার্কিন অর্থনীতি চাঙ্গা করা ও দৈনন্দিন খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান অমীমাংসিত যুদ্ধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ায় পেট্রল ও নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বেড়েছে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটারের কাছে এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইস্যু মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়। দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার স্বাস্থ্যসেবা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধকে প্রধান বিবেচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারী নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৮০ শতাংশই দৈনন্দিন খরচ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপে অসন্তোষ জানিয়েছেন।

এমনকি অর্থনীতির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষের মনোভাব নেতিবাচক। খোদ রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে চাপা অসন্তোষ ধরা পড়ছে। এ সুযোগে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পথ প্রশস্ত হলেও তাদের প্রতিও ভোটারদের আকাশচুম্বী উচ্ছ্বাস নেই। দলটির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব জানিয়েছেন মাত্র ৪০ শতাংশ ভোটার।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও ট্রাম্পের অনুসারী রাজনৈতিক শক্তিগুলো বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ছে।

ব্রিটেনের নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের জনসমর্থন ২০২৫ সালের আগস্টের ৩০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালের আগস্টে ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ইউরোপের সব ডানপন্থি দল ব্যাকফুটে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই টানা যাচ্ছে না। ফ্রান্সে মেরিন লে পেনের ন্যাশনাল র‍্যালি এখনো প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বহাল রয়েছে।

আমেরিকা ফার্স্ট নীতির মাধ্যমে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে সামনে রেখে ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিতে যে মেরুকরণ ঘটিয়েছিলেন, তা আজ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে প্রশ্নের মুখোমুখি।

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফল খারাপ হলেও ট্রাম্পের নিজস্ব ভোটব্যাংক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব একেবারে বিলীন হবে না। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতো নেতাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান কী দাঁড়ায়, তা নিয়েও রিপাবলিকানদের অন্দরে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে।