শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬,
হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ

ভুটানে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ভারতের সীমান্তবর্তী জেলায় সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

ভুটানে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ভারতের সীমান্তবর্তী জেলায় সতর্কতা

ছবি: সংগৃহীত

হিমালয়ের দেশ ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গাসা জেলায় হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিনতাপু হ্রদ ভেঙে নেমে আসা তীব্র পানির তোড়ে মো ছু নদীর তীরবর্তী দেশটির অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ও উষ্ণ প্রস্রবণ গাসা শাচুর সমস্ত অবকাঠামো সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। তবে দুর্যোগের আশঙ্কা বুঝে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পুনাখা এলাকায় অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পানির তীব্র চাপে পুনাখা থেকে গাসা পর্যন্ত সংযোগকারী প্রধান সড়কটির একটি অংশ ভেঙে ভেসে গেছে।

হিমালয় অঞ্চলে ভুটানের যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ হ্রদ শনাক্ত করা রয়েছে, শিনতাপু তার অন্যতম। হ্রদটি মো ছু নদীর উৎপত্তিস্থলে অবস্থিত হওয়ায় পানির ঢল দ্রুত নিম্নাঞ্চলে প্রবাহিত হয়। সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, বন্যার জলস্রোত ইতিমধ্যে পুনাখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্রিগাং এলাকায় পৌঁছে গেছে।

ভুটানের এই পার্বত্য বিপর্যয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। পাহাড়ি ঢল সমতলে নেমে আসার আশঙ্কায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে আসামের ধুবড়ি জেলা এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা। পাশাপাশি ভুটান সীমান্ত লাগোয়া কোচবিহার জেলা প্রশাসনও সংকোশ নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে চরম সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।