অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস থেকে সেপটিক ট্যাংক বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে সাকিব (২২) নামের এক পোশাক কারখানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল সোয়া সাতটার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই ঘরে থাকা আরও দুজন রুমমেট আহত হয়েছেন।
নিহত সাকিব পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক প্রস্তুতকারক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ওই ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নাওজোড় এলাকার ওই নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের সিংহভাগ অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও নিচতলায় সেপটিক ট্যাংকের ওপর আলাদা ঘর নির্মাণ করে পোশাকশ্রমিকদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার সকালে সাকিব ও তার সঙ্গীরা কক্ষের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ ট্যাংকে আটকে থাকা বিষাক্ত বায়োগ্যাস থেকে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরটির দরজা-জানালা দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চারপাশের দেয়ালে ভাঙন ধরে। গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সাকিব।
খবর পাওয়ার পরপরই গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউজ পরিদর্শক রাজিব হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সেপটিক ট্যাংকের উপরিভাগে অপরিকল্পিতভাবে ঘর তুলে ভাড়া দেওয়ায় সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে নির্গমনহীন বিষাক্ত গ্যাস পুঞ্জীভূত হয়েছিল। সেই বিষাক্ত বায়বীয় পদার্থের মাত্রাতিরিক্ত চাপ থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। উদ্ধারকাজ শেষে নিহতের মরদেহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বাসন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবনটিতে এমন বিপজ্জনকভাবে সেপটিক ট্যাংকের ওপর ঘর নির্মাণের পেছনে কোনো ধরনের অবহেলা বা ভবনের নকশাগত ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন