শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬,
উপনির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান

জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

জামায়াতের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, কারচুপি এবং জাল ভোট প্রদানের গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ তুলে বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তিনি জানান, নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো কম ছিল। অথচ পরবর্তীতে ফলাফল তালিকায় নিজেদের ইচ্ছামতো অবিশ্বাস্য ভোটের উচ্চ হার দেখিয়ে ফলাফল সাজানো হয়েছে।

তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ করেন, সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল বিএনপিকে ভোট না দিলে এলাকায় বা বাড়িতে থাকতে দেওয়া হবে না। এমন আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক এবং বিপুল অর্থের লেনদেন ঘটিয়ে ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানে বাধ্য করা হয়েছে।

জামায়াত প্রার্থী দাবি করেন, নির্বাচনে নজিরবিহীন জাল ভোট প্রদান করা হয়েছে। ভোট চলাকালে এ ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে যাদের পুলিশ আটক করেছিল, রহস্যজনক কারণে তাদেরও পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোট গণনা চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়। অনেক এজেন্টকে শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর আইনি সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনে একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন রাত পৌনে ১০টার দিকে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংগ্রহ করেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।