অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
একটি প্রকৃত কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে জাতীয় জীবনে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল প্রাঙ্গণে অবস্থিত তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষক সমিতি, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সংবর্ধনা ও ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা যেমন রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, ঠিক তেমনি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও সমান জরুরি।
শুধু সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেই চলবে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের সরকারীকরণ, এমপিওভুক্তি কিংবা জাতীয়করণের মতো প্রশাসনিক দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেবল এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেই সামগ্রিক সংকট মিটবে না। প্রতিটি স্কুল ও কলেজ থেকে একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী—এই তিন স্তরেই রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের ব্যাপক সামাজিক প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ, শিশুশ্রম নির্মূল এবং মাদকের আগ্রাসন রোধে শিক্ষকদের সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। স্থানীয় বিভিন্ন জটিল সংকট ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ শিক্ষকদের মূল্যবান পরামর্শ গ্রহণ করেন। ফলে শিক্ষকদের সচেতনতামূলক ভূমিকা দ্রুত সমাজ পরিবর্তনে কার্যকর অবদান রাখতে পারে। এসব জাতীয় সমস্যা নিরসনে কেবল একক সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তৃণমূলের শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত সামাজিক অংশগ্রহণ।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার প্রশ্নে সামগ্রিক সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই শিশুদের জন্য উপযুক্ত শিক্ষক ও বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের অভিভাবক ও পরিবারের সীমাবদ্ধতাগুলোকেও হিসাবে রাখতে হবে। একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর দৈনন্দিন যত্ন ও সঠিক শারীরিক-মানসিক বিকাশের জন্য অনেক সময় একাধিক সহায়তাকারীর প্রয়োজন পড়ে। ফলে জাতীয় শিক্ষা পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় এই বাস্তব চিত্রগুলো নীতিমালায় প্রতিফলিত করতে হবে।
জাতীয় পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস নিখুঁতভাবে তুলে ধরার বিষয়ে ডা. জাহিদ হোসেন কঠোর বার্তা দেন।
তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকের কাজ জাতির সঠিক ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়া নয়, বরং ইতিহাসকে পরম মমতায় ধারণ করা। বাংলাদেশের রক্তাক্ত রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নতুন প্রজন্মের কাছে বস্তুনিষ্ঠভাবে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে তারা অতীতের সংগ্রাম, ত্যাগ ও অর্জন সম্পর্কে নির্ভেজাল সত্য জানতে পারে। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে গর্বের অধ্যায় হিসেবে অন্তরে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জনগণের করের অর্থের সুষম বণ্টন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রের প্রতিটি টাকা আসে সাধারণ জনগণের রক্তপানি করা কর ও মূসক থেকে। তাই শিক্ষা খাতসহ রাষ্ট্রের মৌলিক পরিষেবাগুলোতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া এবং সেই বরাদ্দের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার, শিক্ষকসমাজ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মোতাহার হোসেন তালুকদার।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন