বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,
চাকরি নিয়োগ নীতিমালা

আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি উত্তর প্রদেশে নতুন নীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি উত্তর প্রদেশে নতুন নীতি

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোর শর্ত আরোপ করে নতুন চরিত্র যাচাই ও পুলিশি তদন্ত নীতিমালা জারি করেছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য সরকার।

নতুন নীতিমালার বিধান অনুযায়ী, বিভিন্ন আন্দোলন বা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রত্যক্ষ সহিংসতায় জড়িত থাকা প্রার্থীরা সরকারি চাকরির নিয়োগে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন এই বিধিমালার আওতায় রাজ্যের সরকারি বিভাগসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে চাকরিপ্রার্থীদের পুলিশি তদন্ত ও অতীত ইতিহাস যাচাইয়ের শর্তগুলো আরও কঠোর করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, হত্যা, ধর্ষণ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অসদুপায় অবলম্বন বা অনিয়ম এবং সাইবার জালিয়াতির মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে সম্পৃক্ত কোনো প্রার্থী সরকারি চাকরির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ফৌজদারি মামলা-সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য প্রাতিষ্ঠানিক ফর্মে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী যদি নিজের বিরুদ্ধে থাকা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা মামলার তথ্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোপন করেন, তবে পরবর্তীতে তা প্রমাণিত হলে তার নিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি বাতিল করা হবে।

নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ পদগুলোতে চরিত্র যাচাইয়ের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই কোনো প্রার্থীকে সাময়িকভাবে কর্মক্ষেত্রে নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে।

তবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা থাকবে না; সেসব ক্ষেত্রে বিস্তারিত চরিত্র যাচাই এবং পারিবারিক ও সামাজিক পটভূমি পরীক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক থাকবে।

নতুন ব্যবস্থার অধীনে প্রার্থীদের নিজ জেলার পাশাপাশি বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে যেসব জেলায় তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করেছেন, সেই সব জেলার সংশ্লিষ্ট থানা থেকেও পৃথক পুলিশি যাচাই প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। সরাসরি নিয়োগের নিয়মিত অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের পূর্ববর্তী বসবাসের ইতিহাস এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজ্য সরকারের এই কড়া নিয়োগনীতি কেবল সচিবালয় বা সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।

সরকারি করপোরেশন, শিক্ষা ও উন্নয়ন কাউন্সিল, বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত এবং স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

মূলত সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের আগেই প্রার্থীদের অপরাধ-সংক্রান্ত অতীত বিশদভাবে যাচাই করার উদ্দেশ্যেই এই কঠোর কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে। তবে সাধারণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং সহিংসতায় লিপ্ত হওয়ার বিষয় দুটিকে আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। বাস্তবে মাঠপর্যায়ে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বা নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণে পুলিশি তদন্তের সুনির্দিষ্ট ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধিমালার প্রয়োগই চূড়ান্ত ভূমিকা পালন করবে।