বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,

হিজাব পরার নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আজারবাইজানে পদত্যাগ করলেন শিক্ষিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

হিজাব পরার নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আজারবাইজানে পদত্যাগ করলেন শিক্ষিকা

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ককেশাসের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আজারবাইজানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরিধানে অলিখিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ২১ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনেছেন এক অভিজ্ঞ নারী শিক্ষক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে ধরে ওই শিক্ষিকার অশ্রুসিক্ত বিদায়ের আবেগঘন দৃশ্য বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, তিনি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। মুসলিম হিসেবে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবিচল থেকে তিনি নিয়মিত হিজাব পরেই বিদ্যালয়ে পাঠদান করতেন এবং অতীতে এ নিয়ে তাকে কোনো ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়নি।

তবে সম্প্রতি দেশটির মন্ত্রিসভায় স্কুলের নির্দিষ্ট পোশাক বিধিমালার বাইরে অন্য পোশাক পরিধানের নীতিতে পরিবর্তন সংক্রান্ত এক সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা বিদ্যালয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। ওই সিদ্ধান্তে হিজাবের ওপর সরাসরি কোনো লিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি না করা হলেও ধর্মনিরপেক্ষতার অজুহাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজাব পরিধানকারী নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নানা ধরনের অলিখিত চাপ তৈরি করা হতে থাকে। এর ফলে বিদ্যালয়ে হিজাব পরিধান করে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

কর্তৃপক্ষের চাপিয়ে দেওয়া এই অলিখিত পোশাক বিধির মুখে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে আপস না করে ২১ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন ওই নারী শিক্ষক। তার এই বিদায়ের মুহূর্তে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং তাকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসা জানায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। আজারবাইজানের বিভিন্ন স্থানে হিজাব পরিধানে অলিখিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে এবং এ ঘটনায় বহু বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্যও সামনে এসেছে

।

প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশটিতে শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় নীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে নেওয়া এমন পদক্ষেপ আজারবাইজানসহ আন্তর্জাতিক মুসলিম সমাজেও ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে

।