বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,

মোদি ও আদানির সম্পর্ক নিয়ে তথ্যচিত্রে নিষেধাজ্ঞা কলকাতা হাইকোর্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

মোদি ও আদানির সম্পর্ক নিয়ে তথ্যচিত্রে নিষেধাজ্ঞা কলকাতা হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশটির অন্যতম শীর্ষ শিল্পপতি গৌতম আদানির ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‍‍`দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস: হাউ মোদি অ্যান্ড আদানি স্টোল ইন্ডিয়া‍‍` শীর্ষক ৩৬ মিনিটের ওই তথ্যচিত্রটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রচার ও শেয়ার করার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই ঘটনায় প্রামাণ্যচিত্রটির সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি রুপির মানহানির মামলা ঠুকেছে আদানি গ্রুপের মূল প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড।

আলোচিত এই তথ্যচিত্রটি প্রকাশের পরপরই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন ও নেট দুনিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

হটমেইলের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাবির ভাটিয়ার নিজস্ব অনলাইন চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গত ৯ অক্টোবর প্রামাণ্যচিত্রটি প্রথম প্রকাশ করা হয়। এরপরই এটি দ্রুত বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

প্রামাণ্যচিত্রটিতে মূলত গত দুই দশক ধরে নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রসার এবং তার সমান্তরালে গৌতম আদানির বিশাল করপোরেট সাম্রাজ্য গড়ে ওঠার যোগসূত্রকে সামনে আনা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, সরকারি বিধিনিষেধ ও প্রচলিত নীতিমালা উপেক্ষা করে আদানি গ্রুপকে বন্দর, বিমানবন্দর পরিচালনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, সড়ক অবকাঠামো এবং কয়লা খনির ইজারার মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে একক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

তথ্যচিত্রে গুজরাট থেকে দিল্লির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে মোদির যাত্রাপথকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই আদানির সাথে তার ঘনিষ্ঠতার সূচনা। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কীভাবে একটি আঞ্চলিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে আদানি গ্রুপ বৈশ্বিক করপোরেট শক্তিতে রূপান্তরিত হলো, সেই বিবরণ এতে দেখানো হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রে অভিযোগ করা হয়, নীতিগত ছাড় ও রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে জনগণের করের অর্থ ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের মাধ্যমে একটি বিশেষ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে অন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাকে দাবি করা হয়েছে সুবিধাভোগী পুঁজিবাদ বা ‍‍`ক্রোনি ক্যাপিটালিজম‍‍` হিসেবে।

ভিডিওটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর আদালতের দ্বারস্থ হয় আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড।

কলকাতা হাইকোর্টের শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, প্রামাণ্যচিত্রে যেসব দুর্নীতির দাবি তোলা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো যথাযথ আইনি প্রমাণ দাখিল করা হয়নি। এর প্রেক্ষিতে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্যচিত্রটির সব ধরনের প্রচার, পুনঃপ্রচার ও শেয়ার করার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে আদালত। একই সাথে ইউটিউব, এক্স ও ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও ও ক্লিপ অবিলম্বে ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই এই তথ্যচিত্রে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।