অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
নেপালের আমা দাবলাম পর্বত চূড়ায় ওঠার পর ক্যাম্প থেকে নিচে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন জার্মানির পর্বতারোহী উলফগ্যাং ওয়াশিচেক। ৫৭ বছর বয়সী এই অভিযাত্রী শৃঙ্গ জয়ের পর নেমে আসার পথে প্রায় পাঁচ হাজার ফুট গভীর খাদে পড়ে যান। সোমবার (২৫ অক্টোবর) সকালের দিকে পর্বতের ক্যাম্প দুইয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওয়াশিচেকের মরদেহ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ছয় হাজার ৮১২ মিটার উচ্চতার আমা দাবলাম পর্বতের চূড়া স্পর্শ করেছিলেন ওয়াশিচেক। সফলভাবে চূড়ায় ওঠার পর রবিবার রাতে তিনি ছয় হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে থাকা ক্যাম্প তিনে অবস্থান করছিলেন। পরিকল্পনা ছিল সেখান থেকেই ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসবেন।
ট্রেকিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান `রিয়েল হিমালয়া`র প্রধান গোকুল থাপা জানান, সোমবার সকালে ওয়াশিচেকের ব্যক্তিগত গাইড সোনাম লামা ক্যাম্পে ফিরে এসে তাকে আর তাঁবুতে পাননি। ধার করা কিছু সরঞ্জাম ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাইরে যাওয়ার সময় গাইড তাকে তাঁবুর ভেতরেই অবস্থান করতে বলেছিলেন। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই ফিরে এসে তিনি তাঁবু ফাঁকা দেখতে পান।
পরে সকাল আটটার দিকে ক্যাম্প দুইয়ের কাছে প্রায় চার হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতায় আরেকজন শেরপা খাদের পাথরে ওয়াশিচেকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাম্প তিনের খাড়া বরফঢাকা পথ দিয়ে নিচে নামার সময় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি গভীর খাদে পড়ে যান।
বিকালের দিকে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পাঠিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এরপর মরদেহ প্রথমে এভারেস্ট অঞ্চলের প্রবেশদ্বার লুকলায় এবং সেখান থেকে সরাসরি রাজধানী কাঠমান্ডুতে স্থানান্তর করা হয়।
গোকুল থাপা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহটি জার্মানিতে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পর্বতপ্রেমী ওয়াশিচেকের এটি ছিল নেপালে দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০২৪ সালে প্রথমবার তিনি দেশটিতে ট্রেকিং করতে এসেছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে ট্রেকিং সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানানো হয়েছে।
খুম্বু অঞ্চলে অবস্থিত আমা দাবলাম পর্বতটি তার খাড়া ঢাল ও জটিল কারিগরি পথের কারণে পর্বতারোহীদের কাছে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। চলতি মৌসুমে তিন শতাধিক অভিযাত্রী এই পর্বতের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এর মধ্যে চলতি বছর পর্বতটিতে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। গত বছরের অক্টোবরে এই পর্বতে অভিযান চালাতে গিয়ে ৬৫ বছর বয়সী এক ফরাসি ও ৬৬ বছর বয়সী এক দক্ষিণ কোরীয় পর্বতারোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।
হিমালয় অঞ্চলে চলতি মৌসুমে অন্যান্য শৃঙ্গেও একের পর এক প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিবরণ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে পশ্চিম নেপালের একটি পর্বতশৃঙ্গে অভিযানকালে দুই জাপানি পর্বতারোহী প্রাণ হারান।
এর আগে গত মে মাসে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার রেকর্ড গড়ার চেষ্টাকালে দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়। একই মাসে নেপালের মাউন্ট মাকালুতে তুষারধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারান মার্কিন পর্বতারোহী শেলি জোহানেসেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা `ড্যাশ অ্যাডভেঞ্চারস`-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জোহানেসেন ২৭ হাজার ৮৩৮ ফুট উঁচু মাকালু চূড়ায় সফলভাবে পৌঁছালেও ফেরার পথে প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় তুষারঝড়ের মুখে পড়েন। এছাড়া গত জুলাই মাসে পাকিস্তানের ব্রড পিক পর্বতে ভয়াবহ তুষারধসে প্রখ্যাত ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ ১০ জন অভিযাত্রীর করুণ মৃত্যু হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন