অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে জাপান সাগরে একযোগে প্রায় এক ডজন স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির পূর্ব উপকূলের ওনসান অঞ্চল থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছুড়ে শক্তি প্রদর্শন করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস)।
সাগরে একের পর এক আছড়ে পড়ল ক্ষেপণাস্ত্র।
জাপান কোস্ট গার্ডও উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের প্রাথমিক তথ্যে জানানো হয়, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্তত একটি ইতোমধ্যে সাগরের নির্দিষ্ট জলসীমায় পতিত হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দিক থেকে সম্ভাব্য নতুন সামরিক উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় আকাশ ও জলসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী।
দুই কোরিয়ার মধ্যকার অসামরিকীকৃত সীমান্ত অঞ্চলে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিনজন সেনা সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিপক্ষীয় বিরোধ যখন তীব্র রূপ নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ সামরিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সেনারা এক বছরেরও বেশি সময় আগে সীমান্ত রেখায় ওই প্রাণঘাতী স্থলমাইন পুঁতে রেখেছিল। এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন আখ্যায়িত করে অবিলম্বে পিয়ংইয়ংকে সংঘাত পরিহার করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।
সীমান্তের অমীমাংসিত অবস্থান নির্ধারণ এবং স্থগিত থাকা হটলাইন যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিক সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ। তবে সিউলের সেই শান্তি প্রস্তাবে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি কিম জং উনের প্রশাসন।
এরই মধ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সম্ভাব্য প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক সংলাপে সিউলের স্বার্থ উপেক্ষিত বা পাশ কাটানো হতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
১৯৫৩ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে তিন বছরব্যাপী রক্তক্ষয়ী কোরীয় যুদ্ধের সামরিক সংঘাতের অবসান টানা হলেও দুই দেশের মধ্যে কখনো আনুষ্ঠানিক কোনো শান্তি চুক্তি সই হয়নি। ফলে সাত দশকেরও বেশি সময় পার হলেও কাগজে-কলমে দুই কোরিয়া এখনো পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন