অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ঢাকা শহরকেও জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো বর্জ্যমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি’ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, টোকিওর রাজপথে কোনো ধরনের বর্জ্য বা ময়লা-আবর্জনা চোখে পড়ে না। অথচ ঢাকার চারদিকে যত্রতত্র আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ এবং এই অচলাবস্থার দ্রুত পরিবর্তন অপরিহার্য। বর্জ্যের স্তূপ থেকে রোগজীবাণু ছড়ায় জানিয়ে তিনি বলেন, নগরবাসীকে সুস্থ রাখতে হলে চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে।
জনগণের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তায় চলাচলে যেন নাগরিকদের ভোগান্তি না হয় এবং দূষিত বাতাসের কারণে মানুষ যেন অসুস্থ না হয়ে পড়ে, সে জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজধানীকে যদি টোকিওর সমকক্ষ পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করা যায়, তবে সেটিই হবে দেশের অন্যতম বৃহৎ সংস্কার।
সংস্কারের মূল দর্শন ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি এমন সংস্কারেই বিশ্বাস করেন, যার প্রত্যক্ষ সুফল দেশের একেবারে প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষের ঘরে পৌঁছাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের মৌলিক উন্নয়নে নেওয়া রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের সুফল যেন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সমানভাবে পায়, সরকার সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে যখনই হাত দেওয়া হচ্ছে, তখনই একটি মহল প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গৃহীত সংস্কারগুলো সফল হলে প্রবাসীদের পরিবারসহ দেশের আপামর জনসাধারণ উপকৃত হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো দলীয় অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং উদ্যোগগুলোকে যদি দেশ ও জাতির কল্যাণে সঠিক মনে হয় তবেই নির্দ্বিধায় সরকারকে সমর্থন দেওয়া উচিত। এ সময় মিলনায়তনে উপস্থিত প্রবাসীরা করতালি দিয়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এই কাজগুলো এগিয়ে নিতে বিপুল পরিশ্রম, ধৈর্য ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের কাছে নতুন প্রজন্মের শিশুদের জাপানি ভাষা শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসাসেবা, খেলাধুলাসহ বহুমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ করা, ব্যবসা সহজীকরণ, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা উপস্থাপন করেন।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এছাড়াও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সফরসঙ্গীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আলোচনা পর্ব শেষে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানের হাতে সম্মাননা হিসেবে আলোকচিত্র তুলে দেওয়া হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন