বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬,
দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক বৈঠক

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রপতির বহুমুখী উদ্যোগ

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রপতির বহুমুখী উদ্যোগ

মালদ্বীপের সাথে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরও সুসংহত করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, পর্যটন এবং মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে তিনি এ বিষয়ে আলোকপাত করেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ঢাকা ও মালের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পারস্পরিক গভীর আস্থা, সৌহার্দ্য ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এই দ্বিপক্ষীয় বন্ধনকে আরও বহুদূর এগিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ বিদ্যমান।

বৈঠকে হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। শুভেচ্ছা বার্তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতিও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং সে দেশের জনগণের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

এ সময় ঢাকায় একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বিজনেস সামিট আয়োজনের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার কথা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন মালদ্বীপের হাইকমিশনার। রাষ্ট্রপতি এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের যৌথ সম্মেলনের ফলে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও প্রসারিত হবে।

মালদ্বীপের জাতীয় অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে দেশটিতে কর্মরত এক লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির অক্লান্ত অবদানের কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

এ সময় প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করায় মালদ্বীপ সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও পর্যটন শিল্প, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ এবং আধুনিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে উভয় দেশের স্বার্থে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।

বাংলাদেশে বিদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পরিবেশ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্রে অধ্যয়নের যে সুযোগ চালু রয়েছে, তা ভবিষ্যতেও পূর্ণ সহযোগিতার সাথে অব্যাহত থাকবে।

আঞ্চলিক রাজনীতির প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি স্পষ্টভাবে জানান, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরায় সক্রিয় ও গতিশীল করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতাকে আরও কার্যকর রূপ দিতে বাংলাদেশ গভীর আগ্রহী। সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি মালদ্বীপের কাছ থেকে জোরালো সমর্থন ও ইতিবাচক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে আরও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। উক্ত কূটনৈতিক বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, প্রেস সচিব এবং বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।