অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
অপরাধে জড়ালে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না এবং সংসদ সদস্যের সন্তান হলেও তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে সাফ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সার্বিক ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধী শনাক্ত করা, গ্রেপ্তার করা, তদন্ত পরিচালনা ও বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর মতো প্রতিটি কাজ পুলিশ সফলভাবে সম্পাদন করছে। দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকা অস্বাভাবিক নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধের জন্য শাস্তি এবং ভালো কাজের জন্য আনুষ্ঠানিক পুরস্কারের ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করেন যে প্রশাসনে দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের পালনের নীতি কঠোরভাবে চর্চা করা হচ্ছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে, আর কেউ অপরাধে জড়ালে, বেআইনি কাজ করলে কিংবা বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে।
আইনি সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি এবং তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বহু প্রচলিত আইনের সংশোধন এনেছে এবং প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়া আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম কিংবা পুলিশ হেফাজতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতা প্রমাণ করে যে দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত হয়েছে। তবে জনআকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি পূরণ করতে প্রশাসনকে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে।
চলমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর মেলেনি। নির্বাচন অফিস সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশের মতো ভোট সংগৃহীত হয়েছে। একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিশীল।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি এবং আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের গুঞ্জন সংক্রান্ত প্রশ্নের কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। দলটি বর্তমানে একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সত্তা। তিনি মন্তব্য করেন যে তাদের রাজনৈতিক আদর্শের মধ্যে কখনোই গণতন্ত্রের চর্চা ছিল না, বরং নিজেদের তারা একটি স্বৈরতান্ত্রিক ও মাফিয়া শক্তিতে রূপান্তর করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক হাজার ৪০০ জনের বেশি এবং সরকারি হিসাবমতে দুই হাজারের বেশি নিরীহ মানুষকে যারা হত্যা করেছে ও নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়েছে, তারা জাতির কাছে আজ পর্যন্ত ন্যূনতম ক্ষমা প্রার্থনা কিংবা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। উল্টো যারা এই ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সফল করেছে, সেই সাধারণ নাগরিকদেরই তারা চরমপন্থি হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
এমন একটি শক্তিকে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হতে দেবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, কে কবে ফেরার চেষ্টা করছে তা নিয়ে সরকার একেবারেই বিচলিত নয়। প্রশাসনের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার—যে-ই দেশে আসার চেষ্টা করুক না কেন, বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করে তাকে অবিলম্বে সরকারি হেফাজতে নেওয়া হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন