মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিতর্ক

আইজিপি সহজ-সরল মানুষ অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

আইজিপি সহজ-সরল মানুষ অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কথিত ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যকে নিতান্তই অসতর্কতাবশত দেওয়া মন্তব্য বলে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকারের নীতি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এই কঠোর নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইজিপি মূলত একজন সহজ-সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি অনিচ্ছাকৃত ও অসতর্কভাবে ওই মন্তব্য করে ফেলেছেন। তবে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই দেওয়া ঠিক হয়নি এবং এটি একেবারেই অনুচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, সরকার কখনোই কোনো ধরনের ক্রসফায়ার চায় না। বরং ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নীতি হচ্ছে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স)। তিনি জানান, সরকার দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটতে দেবে না এবং এ বিষয়ে তারা অত্যন্ত অনমনীয়। একই সঙ্গে পুলিশ হেফাজতে কোনো মৃত্যু বা শারীরিক নির্যাতন সরকার বরদাশত করবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এখন পর্যন্ত ক্রসফায়ারে বা হেফাজতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন এবং আইনের ন্যায়সংগত প্রয়োগের স্বার্থে যা যা করণীয়, সরকার তার সবকিছুই বাস্তবায়ন করবে।

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির মন্তব্য করেন, সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিলে প্রয়োজনে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে।

ওই অনুষ্ঠানে আইজিপি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, পুলিশ আইনগতভাবে বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ তাদের ফ্যাসিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করে, আবার কঠোর না হয়ে নিষ্ক্রিয় থাকলে অন্য পক্ষ দুর্বল আখ্যা দেয়। তাই সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পুলিশ বাহিনীকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সহায়ক ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।