অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রস্তাবিত দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানকে দেশের উন্নয়ন ও শিল্প খাতের সঙ্গে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা গবেষণার মাধ্যমে যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তা জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে। দেশের ভেতর গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ ঘটাতে নানামুখী প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদেশে গিয়েও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। তবে সরকার চায়, গবেষকরা দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় করে নিজেদের উদ্ভাবনের বাস্তবমুখী প্রয়োগ ঘটাবেন। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও গবেষণার ব্যবহারিক দিক নিয়ে এখন থেকেই কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ হওয়ায় দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। দেশের সার্বিক অগ্রগতির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া দেশের ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ভাষা ইনস্টিটিউট চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু।
তিনি জানান, বর্তমান প্রশাসন মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করছে। কেবল বহুতল ভবন নির্মাণ করলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবকাঠামোগত সার্থকতা আসে না। অবকাঠামোর প্রকৃত সুফল তখনই মিলবে, যখন শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবেন। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে এক হাজার আসন বিশিষ্ট একটি ছাত্র হল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে এক হাজার আসন বিশিষ্ট একটি ছাত্রী হল এবং একটি আধুনিক স্পোর্টস জোন নির্মাণের বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের যোগসূত্র নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
তিনি স্পষ্ট করেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কেবল পাঠদান, ডিগ্রি বিতরণ বা গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাত যৌথভাবে এমন সব গবেষণা পরিচালনা করতে পারে, যার লক্ষ্য হবে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সংকটের টেকসই সমাধান খোঁজা।
মাভাবিপ্রবি ইতিমধ্যে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বেগবান করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, গবেষক সমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যকার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক দেশের সার্বিক উন্নয়নে চালিকাশক্তি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মাভাবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।
দিনটি উদযাপনে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২৪টি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ৩০ জন শিক্ষক ও ১৯ জন শিক্ষার্থীকে রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও পাঁচজনকে ‘ইউনিভার্সিটি কমিউনিটি চিলড্রেনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানের বাস্তবমুখী প্রসার ঘটানো।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন