মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

প্রতীকী ছবি

বাগেরহাট সদর উপজেলার বড়বাঁশবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার একরামুল করিমের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদিকুল ইসলাম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ। তারা সরেজমিন অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

এর আগে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে বলৎকার, ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উপবৃত্তির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন এক অভিভাবক। আবেদনে দাবি করা হয়, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর থেকেই প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অনৈতিক ও আর্থিক অনিয়মে যুক্ত রয়েছেন।

অভিযোগকারী অভিভাবক সালমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একজন প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণ পুরো সমাজের জন্য লজ্জার। শিক্ষার্থীরা যেখানে ভালো শিক্ষা ও নৈতিক পরিবেশ পাবে, সেখানে তাঁদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের উপবৃত্তির নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক নাম আসেনি বলে বিভ্রান্ত করেন এবং পরবর্তীতে সেই টাকা প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে তুলে নেওয়া হয় বলে তিনি জানতে পারেন। তিনি অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে এবং আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক তাকে ব্যক্তিগত বাসায় যাওয়ার জন্য অনবরত চাপ দিতেন। শ্রেণিকক্ষে অসৌজন্যমূলক আচরণের পাশাপাশি মুঠোফোনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তাকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অন্য শিক্ষকদের বিষয়টি অবগত করলে তারা প্রমাণ সংগ্রহের পরামর্শ দেন। এরপর পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে তাকে নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়া হয় এবং অনৈতিক কাজের উদ্দেশ্যে বাসায় যাওয়ার জন্য বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নৃপেন্দ্রনাথ রায় উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালে যোগদানের পর থেকেই তারা প্রধান শিক্ষকের নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আর্থিক অনিয়ম প্রত্যক্ষ করছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার কাছে অভিযোগ জানালে তারা বার্তাগুলো পর্যালোচনা করেন এবং পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর ছবি ও ভয়েস বার্তা পাঠাতে থাকেন, যাতে পরিবারের সদস্যরা তা টের না পান।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার অভিযোগ করে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় প্রধান শিক্ষক নিয়মিত অশোভন ও ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা বলতেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ক্লাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। একই সঙ্গে প্রশ্ন পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনৈতিক দাবি তোলার অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বড়বাঁশবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার একরামুল করিম।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদিকুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তারা সরেজমিন বিদ্যালয়ে গেছেন। এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।