অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপন সংক্রান্ত পূর্ববর্তী বিধিনিষেধ সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা প্রবাল দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি রাতেও অবস্থান করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে এই সংশোধিত নির্দেশনা জারি করা হয়।
এর ফলে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটল।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান জানান, নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের অবস্থান নিয়ে যে প্রশাসনিক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি দূর করা হয়েছে। নতুন আদেশের ফলে ঘোষিত পুরো সময়সীমাতেই পর্যটকদের জন্য দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
এর আগে গত ১২ অক্টোবর সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত রবিবার পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা চিঠিতে পূর্ববর্তী বছরের ২২ অক্টোবরের পুরোনো প্রজ্ঞাপন বহাল রাখার কথা বলা হয়েছিল। সেই পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে শুধু দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা ছিল এবং কেবল ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের অনুমতি ছিল। এর ফলে ভ্রমণপিপাসু পর্যটক, স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী এবং পর্যটকবাহী জাহাজমালিকদের মাঝে চরম বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর সরকার দ্রুত তাদের অবস্থান পর্যালোচনা করে নীতিমালায় এই পরিবর্তন আনে।
নতুন নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে, কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নির্ধারিত ঘাট থেকেই সেন্টমার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করবে।
একই সঙ্গে দ্বীপে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক প্রবেশের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দ্বীপে গমনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করতে হবে এবং জনপ্রতি একশত টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি পরিশোধ করতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন