অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
বিশ্ববাজারে আনুষ্ঠানিক বিক্রির কয়েক দিনের মাথায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং স্মার্টফোন iPhone Duo-র স্ক্রিনে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকেরা। নতুন এই ডিভাইসের পর্দা নিয়ে ক্রেতাদের মাঝে গভীর উদ্বেগ দেখা দেওয়ার প্রেক্ষিতে অল্পসংখ্যক ডিভাইসে ত্রুটি থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এটি ব্যাপক উৎপাদনজনিত ত্রুটি কি না, তা মূল্যায়নের জন্য এখনো পর্যাপ্ত উপাত্ত মেলেনি বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বৈশ্বিক বাজারে এক হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার প্রারম্ভিক মূল্যে এই ফোল্ডিং ফোনটির আনুষ্ঠানিক বিপণন শুরু হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রেডিটে ডিভাইসটির ডিসপ্লে ও ভাঁজের অংশে ফাটল ধরার কথা তুলে ধরছেন একাধিক দেশের ক্রেতারা।
বিষয়টি স্বীকার করে অ্যাপল জানিয়েছে, তাদের নতুন iPhone Duo-র ভেতরের প্রধান ডিসপ্লেতে সীমিত কিছু ইউনিটে এই সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো ক্রেতা ডিভাইসের স্ক্রিনে সমস্যা অনুভব করলে বিনামূল্যে প্রতিস্থাপনের জন্য অবিলম্বে AppleCare-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার এক ভুক্তভোগী ক্রেতা রেডিটে জানান, হস্তগত হওয়ার মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে তার ফোনের অভ্যন্তরীণ স্ক্রিনটিতে ফাটল সৃষ্টি হয়। এক বন্ধুকে ভাঁজ খুলে ফোনটি দেখানোর মুহূর্তে স্ক্রিনের নিচের অংশে একধরনের অস্বাভাবিক চাপ অনুভূত হয় এবং খোলার সময় স্পষ্ট পটকা ফাটার মতো শব্দ হয়ে ডিসপ্লেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পোস্টের সংযুক্ত ছবিতে স্ক্রিনের পাশে সাদা দাগ ফুটে উঠতে দেখা যায়, যা অভ্যন্তরীণ প্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ। স্থানীয় স্টোরে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে তার ডিভাইসটি বদলে দেওয়া হলেও পুরো ঘটনার সত্যতা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ব্লুমবার্গের তথ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও একই ধরণের ফাটলের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানা গেছে। অ্যাপল কর্তৃপক্ষের ধারণা, ত্রুটিপূর্ণ ইউনিটগুলো ব্যবহারের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমস্যা প্রকাশ করছে, তবে প্রাথমিক ক্রেতাদের সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া এখনও অত্যন্ত ইতিবাচক।
উল্লেখ্য, অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বহুল আলোচিত ও কৌশলগত পণ্য উন্মোচন। গত সেপ্টেম্বর মাসে টিম কুকের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য ও বিশ্লেষণ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো জানান, পর্দার সমস্যাটি আসলে কতটা বিস্তৃত তা নিশ্চিত হতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। নতুন কোনো পণ্য প্রথমবার বাজারে ছাড়ার পর প্রাথমিক পর্যায়ে এ জাতীয় অপ্রত্যাশিত প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।
২০১৯ সালে স্যামসাংয়ের প্রথম ফোল্ডিং ডিভাইস বাজারে আনার সময়ের নজির তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, সংকট দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় কাটিয়ে উঠতে পারলে নতুন উদ্ভাবনী ক্যাটাগরিতে আস্থা টিকিয়ে রাখা সম্ভব। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের সরাসরি নতুন ডিভাইস বদলে দেওয়ার নীতি নিয়ে অ্যাপল সঠিক পথেই হাঁটছে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি গবেষণা সংস্থা সিসিএসের প্রধান বিশ্লেষক বেন উড পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ডিভাইসটিতে গণহারে বা ব্যাপক মাত্রায় কোনো ত্রুটি রয়েছে—এমন কোনো অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন