শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,
ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান প্রস্তুতি

আর্টেমিস-৩ মিশনের পরিকল্পনা প্রকাশ: চাঁদে অবতরণের জটিল পরীক্ষার ঘোষণা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১০:২৮ এএম

আর্টেমিস-৩ মিশনের পরিকল্পনা প্রকাশ: চাঁদে অবতরণের জটিল পরীক্ষার ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদে মানববাহী যান অবতরণ নিশ্চিত করতে ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও বড় ধরনের মহাকাশ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA। সংস্থাটির আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় ব্লু অরিজিন ও স্পেসএক্সের তৈরি পৃথক দুটি চন্দ্রযান যাচাই করতে আগামী বছর পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে এই বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির ব্যবস্থাপক জেরেমি পারসনস এই পরীক্ষাকে এ যাবৎকালে পরিচালিত সবচেয়ে জটিল উৎক্ষেপণ অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন, অযথা কালক্ষেপণ কিংবা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করবে না সংস্থাটি। ২০২৮ সালে নভোচারীদের চাঁদের মাটিতে চূড়ান্তভাবে নামানোর লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী বছর পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে মহড়া চালানো হবে। সরবরাহকারী ও বেসরকারি অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে আইজ্যাকম্যান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে পড়লে নাসার কর্মীরা দাপ্তরিক পর্যবেক্ষণ বা প্রতিবেদন তৈরিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি সমস্যা সমাধানে মাঠে নামবেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইজ্যাকম্যান আগের পরিকল্পনায় সংশোধন এনে ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ নামের এই পরীক্ষামূলক অভিযান যুক্ত করেন। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮৫৫ মাইল বা তিন লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার হলেও এই মহড়াটি চালানো হবে পৃথিবী থেকে মাত্র কয়েক শ মাইল ওপরে।

আনুমানিক ১৪ দিনের এই বিশেষ অভিযানে তিনটি বিশালাকার রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে। পাশাপাশি নভোচারীবাহী ওরিয়ন মহাকাশযানের সঙ্গে পরীক্ষামূলক যানগুলোর একাধিকবার সংযুক্ত ও বিচ্ছিন্ন হওয়ার কৌশল যাচাই করা হবে। মূলত ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো কর্মসূচির পর প্রথমবারের মতো চাঁদের বুকে মানুষ নামানোর জন্য নির্ধারিত আর্টেমিস-৪ অভিযানের চূড়ান্ত যান নির্বাচন করতেই এই প্রস্তুতি।

চুক্তিবদ্ধ দুই সংস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার প্রকৌশল নকশায় চন্দ্রযান প্রস্তুত করছে। স্পেসএক্স তাদের ১৭১ ফুট উঁচু বিশাল স্টারশিপ ব্যবহার করতে চায়, যা একই সঙ্গে অবতরণযান ও রকেটের ওপরের ধাপ হিসেবে কাজ করবে। ছয়টি রকেট ইঞ্জিন সম্বলিত স্টারশিপ সম্প্রতি প্রথমবারের মতো কক্ষপথে উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে।

অন্যদিকে ব্লু অরিজিনের ৫২ ফুট উঁচু ব্লু মুন মার্ক-২ অ্যাপোলো যুগের ঐতিহ্যবাহী অবতরণযানের আদলে নকশা করা হয়েছে। যানটি নিউ গ্লেন রকেটের কার্গো অংশে উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। তবে মে মাসে ভূমি পরীক্ষার সময় নিউ গ্লেন রকেটের বিস্ফোরণে ফ্লোরিডার উৎক্ষেপণকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের ছোট সংস্করণ ব্লু মুন মার্ক-১-এর উড্ডয়ন স্থগিত রাখা হয়।

মহাকাশযানগুলোর উৎপাদন দ্রুত করার পাশাপাশি হিউস্টনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিওমের তৈরি চাঁদে হাঁটার পোশাক আরও হালকা ও সহজ করার অনুমোদন দিয়েছে নাসা।

স্পেসএক্সের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মহাকাশে অতি ঠান্ডা ক্রায়োজেনিক জ্বালানি স্থানান্তর। চাঁদে যাত্রার উদ্দেশ্যে মহাকাশে একাধিকবার জ্বালানি ভরতে প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় থেকে আটটি রকেট উৎক্ষেপণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। ২০২৭ সালের শুরুতে স্পেসএক্স এই মহড়া পরিচালনা করবে।

ব্লু অরিজিনকেও চলতি বছরের শেষ নাগাদ নিউ গ্লেন রকেটের উড্ডয়ন পুনরুদ্ধার করে আগামী বছরের শুরুতে মার্ক-১ সংস্করণের পরীক্ষা শেষ করতে হবে। আর্টেমিস-৩ অভিযানে ওরিয়ন মহাকাশযানের চার নভোচারী সংযুক্ত থাকা অবস্থায় ব্লু মুন মার্ক-২-তে প্রবেশ করে জীবনধারণ ব্যবস্থা যাচাই করবেন।

আর্টেমিস-৩ সম্পন্ন হওয়ার পর উভয় প্রতিষ্ঠানের যান মানুষ ছাড়াই পরীক্ষামূলকভাবে চাঁদের মাটিতে নামবে। যে প্রতিষ্ঠানের যান আগে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও নিরাপদ হিসেবে প্রমাণিত হবে, তারাই আর্টেমিস-৪ অভিযানে নভোচারীদের চাঁদে নামানোর সুযোগ পাবে।