অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ এবং ছবির অননুমোদিত অপব্যবহারকে ব্যক্তিগত অধিকারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভীতিকর বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি কাঠামোর সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ ও তারকাদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
সম্প্রতি এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে অংশ নিয়ে আধুনিক তারকা হয়ে ওঠার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এআই নিয়ে নিজের এই গভীর উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।
কৃতি শ্যানন উল্লেখ করেন, অনলাইনে প্রচারিত ছবির মধ্যে কোনটি আসল আর কোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি, তা শনাক্ত করা দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে। কারণ কৃত্রিম উপায়ে তৈরি অবয়ব দেখতে হুবহু বাস্তব ছবির মতোই নিখুঁত। দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য এতটাই সূক্ষ্ম যে তা সাধারণ চোখে ধরা পড়ে না। ফলে প্রযুক্তির এমন আগ্রাসী অগ্রগতির মুখে সমাজ এখনো প্রস্তুত নয় এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি জানান, ইনস্টাগ্রামে কারও বিকৃত বা ভুয়া ছবি সরানোর জন্য রিপোর্ট করার মতো স্পষ্ট কোনো সরাসরি বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। যার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে প্রমাণ করা যায় যে ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি একটি নকল রূপ।
অভিনেত্রী স্পষ্ট করেন যে তিনি প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিরোধী নন, তবে উদ্ভাবনের গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আইনকেও যুগোপযোগী করতে হবে।
কৃতির মতে, এআই মূলত একটি ধারালো অস্ত্রের মতো কাজ করে। একটি অস্ত্র যত বেশি ধারালো হয়, তার অপব্যবহারের ঝুঁকিও ততটাই মারাত্মক আকার ধারণ করে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাই তাকে সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে তেলুগু চলচ্চিত্র ‘১: নেনোক্কাদিন’ দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটার পর একই বছর ‘হিরোপন্তি’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন কৃতি শ্যানন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত কাজের মাধ্যমে সমসাময়িক প্রজন্মের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন