শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

সুমো দিদি সিনেমায় মোটা শরীর বাধা নয় বরং স্বপ্নজয়ের হাতিয়ার

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

সুমো দিদি সিনেমায় মোটা শরীর বাধা নয় বরং স্বপ্নজয়ের হাতিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক স্থূলতা নিয়ে সমাজে নারীদের প্রতিনিয়ত যে অবমাননাকর কটূক্তি বা বডি শেমিংয়ের শিকার হতে হয়, তাকে শক্তিতে রূপান্তর করার অনন্য এক বাস্তব গল্প সেলুলয়েডের পর্দায় নিয়ে এসেছে বলিউড। ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসের প্রথম নারী সুমো কুস্তিগির হেতাল দাবের সংগ্রামী জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সুমো দিদি’।

পরিবারের ভেতরের রক্ষণশীল মনোভাব আর নিজের অবচেতন মনে জমে থাকা আত্মগ্লানির কঠিন প্রশ্নগুলোকে নির্ভীকভাবে সামনে এনেছে এই ক্রীড়াভিত্তিক জীবনী চলচ্চিত্রটি। নিজের পরিচালিত প্রথম সিনেমাতেই এমন এক অপ্রচলিত ও জটিল বিষয়কে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা জয়ন্ত রোহতগি। ছবির সূচনাটি এত নাটকীয় ও শ্বাসরুদ্ধকর ভঙ্গিতে সাজানো হয়েছে, যা দর্শকদের শুরুতেই ক্লাইম্যাক্সের মুখোমুখি এনে দাঁড় করায়।

ক্রিকেট উন্মাদনা, বিয়ে নিয়ে পারিবারিক অস্থিরতা আর স্থূল শরীর ঘিরে ক্রমাগত কটূক্তিতে ভরা এক বাস্তবতার বিরুদ্ধে একা লড়েছিলেন এক তরুণী। দেশে সুমো কুস্তির কোনো ন্যূনতম প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো বা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও তিনি আন্তর্জাতিক ময়দানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে এর আগে কোনো নারী এই খেলায় পেশাদার পর্যায়ে অংশ নেওয়ার সাহস দেখাতে পারেননি।

প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা শ্রীয়া ভগণানি অসাধারণ দক্ষতায় বাস্তব জীবনের হেতাল দাবের ব্যক্তিত্বকে পর্দায় তুলে ধরেছেন। অত্যন্ত কঠিন এই শারীরিক চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি একটানা কয়েক মাস ধরে সুমো কুস্তির কঠোর কসরত ও শরীরচর্চার মধ্য দিয়ে গেছেন। কোনো ধরনের কৃত্রিম রূপসজ্জা বা জমকালো আধুনিক পোশাকের সাহায্য ছাড়াই তিনি চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

হেতালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কোচের চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন চৈতন্য শর্মা। হেতালের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রয়াত গুণী অভিনেতা নীতেশ পান্ডে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ওজনের মেয়েকে যেকোনো উপায়ে বিয়ে দেওয়ার জন্য সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় ভোগা মায়ের রূপটি বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন অনুভা ফতেহপুরা। জাপানি সুমো প্রশিক্ষক তাওসির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কাজুমাসাসাতো, যিনি অন্যান্য অভিনয়শিল্পীদের সাথে মিলে গল্পের আবহকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন।

হাসি, কান্না আর কঠিন প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নানা আবেগঘন মুহূর্ত চলচ্চিত্রজুড়ে তুলে ধরা হয়েছে। গতানুগতিক সামাজিক ট্যাবু ভাঙার এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং সমাজে অবহেলিত মানুষের বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়।