অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ডিলারদের দোকানে সারের তীব্র সংকটের মধ্যে তিনটি গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার রাতে পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাজারে আওয়ামী লীগের এক নেতার গোডাউনে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগ তুলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিক্ষোভের পর এই যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযান পরিচালনাকারী দল তিনটি পৃথক গুদামে গিয়ে বিপুল পরিমাণ সারের বস্তা দেখতে পায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কৃষকেরা বেশ কিছুদিন ধরে ডিলারদের বিক্রয়কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদামতো প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছিলেন না। রোপা ও রবি মৌসুমের প্রস্তুতিতে সারের সরবরাহ না মেলায় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এমন বাস্তবতায় বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মুন, সদস্য সচিব লিখন সরকার ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল রানা পিন্টুর নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা ভাঙ্গুড়া বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাতক নেতা ইবনুল হাসান শাকিলের মালিকানাধীন গুদামে কৃষকের জন্য বরাদ্দ বিপুল পরিমাণ সার গোপনে মজুদ রাখা হয়েছে। কৃষকদের সার না দিয়ে এভাবে গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান এবং ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাফিউল আজম। পরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত নেতার গুদামসহ তিনটি সারের গুদামে যৌথ তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে বিপুল পরিমাণ সার সংরক্ষিত থাকতে দেখা যায়।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মুন অভিযোগ করে বলেন, চাষিরা মাঠে দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। অথচ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশ্যে একটি চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের বিপদে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি এই সার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে ছাত্রদলের তোলা সিন্ডিকেটের অভিযোগ নাকচ করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান।
তিনি দাবি করেন, গুদামগুলোতে সংরক্ষিত সারগুলো চলতি সপ্তাহেই সরকারিভাবে এসেছে। উপজেলার খানমরিচ, দিলপাশার ও ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের জমিতে সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ওই তিন ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণের লক্ষ্যেই এই সারগুলো এখানে সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
কৃষি কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে প্রায় ১৬ জন ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে নির্ধারিত সার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কোনো অসাধু উদ্দেশ্য থাকলে সার কৃষকদের হাতে পৌঁছাত না। দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুত থাকা এসব সার তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝে সমবণ্টন করা হবে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন