জুলাই ২০, ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
দিনাজপুর জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। অনুকূল আবহাওয়া ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতায় কৃষক এখন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলায় ইতিমধ্যে ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে ২ লাখ ৭২ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭২০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ২৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। এই মৌসুমে প্রায় ৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিএডিসি কৃষকদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জেলায় বিএডিসির তালিকাভুক্ত ১২৬ জন সারের ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সারের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি ডিলারের অধীনে তিনজন করে সাব-ডিলার রয়েছেন, যারা তৃণমূল পর্যায়ে সার পৌঁছে দিচ্ছেন। বাজারে সারের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করায় কৃষকদের সারের সংকট নিয়ে চিন্তিত হতে হবে না বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজল হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে খারিপ-১ এর আওতায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভালো বৃষ্টিপাত হওয়ায় রোপা আমন চাষে কোনো সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। গত ৫ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান রোপণ হয়েছে।
এদিকে, উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে দিনাজপুর সদরে ২৫ হাজার ৫২০ হেক্টর, বিরলে ২৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, বোচাগঞ্জে ১৭ হাজার ৮০০ হেক্টর, কাহারোলে ১৪ হাজার ৭০০ হেক্টর, বীরগঞ্জে ২৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর, খানসামায় ১৪ হাজার ৪০০ হেক্টর, চিরিরবন্দরে ২৪ হাজার ৯০০ হেক্টর, পার্বতীপুরে ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, ফুলবাড়ীতে ২৪ হাজার ২৫০ হেক্টর, বিরামপুরে ২৪ হাজার ২৫০ হেক্টর, নবাবগঞ্জে ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর, হাকিমপুরে ১২ হাজার ৬৫০ হেক্টর এবং ঘোড়াঘাটে ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হবে।
কাহারোল উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানান, শ্রাবণের শুরুতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় তারা জমি চাষ ও চারা রোপণে পুরোদমে নেমে পড়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত সার পাওয়ায় তারা আশাবাদী। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছেন। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, পরিবেশ অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আমন ধান আবাদ সম্ভব হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন