ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৯:০৫ পিএম
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় অসময়ের বৃষ্টি, পোকার উপদ্রব এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি আমন মৌসুমে ফলনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাজারে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন আমন চাষীরা।
কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৫ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল।
ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৮ মণ ধান কম উৎপাদন হচ্ছে।উপজেলার কৃষকরা জানান, ধান আবাদে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিঘাপ্রতি বাড়তি খরচ হয়েছে।
৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। কৃষক আনারুল ইসলাম জানান, তাঁর বিনা ধান-৩৪ প্রতি বিঘায় ফলন হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১০ মণ, যা গতবারের তুলনায় প্রায় ৭-৮ মণ কম।কৃষক আশরাফ আলী ও শিক্ষক নরেশ চন্দ্র রায় জানান, স্বর্ণ ও একান্ন জাতের ধান বিঘাপ্রতি ১৬ থেকে ১৮ মণ ফলন হয়েছে। কিন্তু জমির দামসহ উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা, অথচ এই ধান বিক্রি করে সর্বোচ্চ ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে।কৃষক আব্দুল হাকিম ও রবীন্দ্রকুমার রায় জানান, অসময়ের বৃষ্টি ও ঝড়-বাতাসে ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে অনেক বেশি। পাশাপাশি বিনাধান-৩৪ এ ব্যাক হারে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা গেছে।
বর্তমানে ধানের প্রকারভেদে প্রতি মণ ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, এবার উপজেলায় ৫০ হাজার ম্যাট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তিনি কৃষকদের লোকসান কাটাতে হতাশ না হয়ে মৌসুমের শেষে ধান বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন।নব যোগদানকারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো. জাহিদুর রহমান পোকার উপদ্রব কম থাকলেও ধান পড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হওয়ার সম্ভবানা রয়েছে বলে জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন