শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্যে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ

সৌদির বিরুদ্ধে হুতিদের নতুন অস্ত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

সৌদির বিরুদ্ধে হুতিদের নতুন অস্ত্র

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে সামরিক ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল বেছে নিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রিয়াদকে ধর্মীয় ও কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নাম এবং তার সংশ্লিষ্ট নথিপত্রকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে গোষ্ঠীটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে দফায় দফায় উন্মুক্ত করা এপস্টেইন সংক্রান্ত গোপন নথিগুলোর ওপর গভীর নজর রাখছে হুতিদের প্রচার সেল।

নথির বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি রাজদরবারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অতীতে এপস্টেইনকে পবিত্র কাবার গিলাফের নকশা ও কাপড়ে তৈরি একটি মূল্যবান ট্যাপেস্ট্রি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানের প্রতীক কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধীকে পাঠানোর এই অভিযোগকেই এখন সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে মূল প্রচারণায় পরিণত করেছে হুতিরা।

এই প্রচারকে বিশ্বাসযোগ্য ও জোরদার করতে নানামুখী প্রচারকৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে।

যার মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি, ব্যাঙ্গাত্মক ভিডিও, সামাজিক মাধ্যমের আলোচিত গান, ধর্মীয় বক্তব্য এবং পরিচিত অনলাইন ব্যক্তিত্বদের সমন্বিত প্রচার। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সামরিক সমর্থন দিয়ে আসা সৌদি আরবকে নৈতিকভাবে দুর্বল করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

চলতি গ্রীষ্মে রক্তক্ষয়ী সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার পর হুতিদের জনসংযোগ কার্যক্রম আরও ব্যাপক রূপ নেয়।

এসব প্রচারে নিজেদের বিদেশি আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত রক্ষক হিসেবে জাহির করছে তারা। সম্প্রতি সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে মক্কার পবিত্র ভূমি নিশানা করেছে। তবে এই অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দেয় গোষ্ঠীটি।

হুতিদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে গোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত অভিযোগের উল্টো তীর ছুড়ে বলেন, যারা অতীতে এপস্টেইনের মতো ব্যক্তির কাছে কাবার গিলাফ উপহার পাঠিয়েছিল, তারাই এখন মক্কাকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নথিগুলো প্রকাশের পর সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে গিলাফ সংক্রান্ত দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে এই প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন ইয়েমেনের আলোচিত কৌতুকশিল্পী মুস্তফা আল-মুমারি, যার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অনুসারীর সংখ্যা ২৭ লাখেরও বেশি। ২০২৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সৌদি নীতির তীব্র সমালোচকে পরিণত হওয়া মুস্তফা আল-মুমারি এই বিষয়ে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। দেশটির একজন জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পীও এই দাবি ঘিরে একটি বিশেষ গান রচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে ২০১৯ সালে আত্মহত্যা করা ইহুদি ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের প্রসঙ্গটি হুতি সর্বোচ্চ নেতা আবদুল মালিক আল-হুতির ধারাবাহিক বক্তৃতায় নিয়মিত উঠে আসছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, এপস্টেইনের নথিগুলো গভীর গুরুত্ব দাবি করে, কারণ এর মধ্য দিয়ে এক অন্ধকার প্রক্রিয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের অভিজাত নেতাদের তৈরি করার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, পশ্চিমা কট্টর ডানপন্থি মহলেও হুতিদের এই ডিজিটাল আক্রমণ আলোড়ন তুলছে। ডানপন্থি জনপ্রিয় মার্কিন পডকাস্টার জেক শিল্ডস হুতিদের প্রচারণার প্রশংসা করে তাদের দুর্ধর্ষ শক্তি হিসেবে মন্তব্য করেছেন।