অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে আমদানি করা চালের মধ্যে ১৩৫ টনে ক্ষতিকর ও বিষাক্ত উপাদান আফলাটক্সিন শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে সংরক্ষিত চালের নমুনায় এই বিষাক্ত উপাদানের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
প্রাথমিক পরীক্ষায় এসব চালকে খাওয়ার উপযোগী ঘোষণা করা হলেও পরবর্তী গবেষণাগার পরীক্ষায় উল্টো ফল আসে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর সেগুলো অধিকতর পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার নামের জাহাজে করে এই চালের চালান দেশে আসে। গত ২১ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছালে পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জাহাজে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে চাল খাবার উপযোগী হিসেবে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ২৪ ও ২৫ জুলাই তা বন্দর থেকে খালাস করা হয়।
খালাসের পর চালের চালানটি ঢাকার তেজগাঁও, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট গুদামগুলোতে পৌঁছানোর পর খাদ্য কর্মকর্তারা চালের দৃশ্যমান নিম্নমান দেখে তীব্র আপত্তি জানান। চাল খাবার উপযোগী মনে না হওয়ায় পরিবহন ঠিকাদাররাও পরবর্তী সরবরাহ কার্যক্রম স্থগিত রাখেন। এরপর সার্বিক পরিস্থিতি লিখিতভাবে খাদ্য সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অবহিত করা হয়।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চালের গুণগত মান নিশ্চিত করতে গত ১৭ আগস্ট নতুন তদন্ত শুরু হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল চট্টগ্রামে আসে। তারা হালিশহর ও দেওয়ানহাট খাদ্যগুদামের বিভিন্ন স্তূপ থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করে। ওই নমুনা পরীক্ষায় হালিশহর খাদ্যগুদামের ১৩৫ টন চালে ক্ষতিকর আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানের নির্দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে নয় হাজার টন চালের বিতরণ আটকে রেখে সার্বিক মান পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষায় নির্দিষ্ট ১৩৫ টন চালে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাকি চাল নিয়মমাফিক বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হালিশহর খাদ্যগুদামের ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ ও দেওয়ানহাট খাদ্যগুদামের ব্যবস্থাপক হামিম রহমান।
চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ শাখার নিয়ন্ত্রক রেজোয়ান সাকিব জানান, হালিশহরের চালে আফলাটক্সিন পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর অধিকতর বিশ্লেষণের লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, খাদ্যে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি মূলত অ্যাসপারজিলাস গোত্রের ছত্রাক থেকে উৎপন্ন এক ধরনের জৈব বিষ। অনুকূল বা অতিরিক্ত আর্দ্র পরিবেশে খাদ্যশস্য দীর্ঘসময় সংরক্ষিত থাকলে এই বিষাক্ত ছত্রাকের জন্ম হয়। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দীর্ঘদিন আফলাটক্সিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে মানবদেহের যকৃতের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে যকৃতের ক্যানসার বা লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পায়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন