শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,
মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

মাদরাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার দুই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

মাদরাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার দুই

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের একটি আবাসিক কওমি মাদরাসায় আট বছর বয়সী এক ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), মোহাম্মদ মিজান (৩৮) এবং মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)। তাদের মধ্যে অলিউল্লাহ ইসলাম ওই মাদরাসার শিক্ষক এবং বাকি দুজন তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এজাহারের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর বিকেল চারটার দিকে নগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বর এলাকার ডেঙ্গুর আলী সড়কে অবস্থিত দারুল হেদায়া কওমি মাদরাসার আবাসিক বিভাগে শিশুটিকে ভর্তি করিয়ে আসেন তার মা। পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর দুপুরে শিশুটি বাসায় খেতে গেলে গোসলের সময় তার শরীরে তীব্র ব্যথার কথা প্রকাশ করে।

ব্যথার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি জানায়, গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এরপর ভয়ভীতি ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে মাদরাসার স্টোর রুমে নিয়ে তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়।

মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে ১১ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টা এবং ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে একই স্থানে নিয়ে শিশুটির ওপর দফায় দফায় নিপীড়ন চালানো হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে মারধরের হুমকিও দেওয়া হতো শিশুটিকে।

ঘটনা জানার পর ভুক্তভোগী শিশুর মা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে মাদরাসা পরিচালনার সাথে যুক্ত দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে কৌশলে মাদরাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে গাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অপর অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।