শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পরিচালক আটক, প্রতিষ্ঠানে আগুন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পরিচালক আটক, প্রতিষ্ঠানে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

পাবনা সদর উপজেলায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে পদ্মা মাঠসংলগ্ন নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তির নাম আবু ইউসুফ। তিনি সদরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে এবং ওই মাদরাসার পরিচালক।

এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ফজরের আজানের আগে ভুক্তভোগী ছাত্রীটি শৌচাগারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কক্ষ থেকে বের হয়। সে সময় অভিযুক্ত পরিচালক তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তখন তাকে ধরে ফেলেন এবং থানায় খবর দেন।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসা ও অভিযুক্ত পরিচালকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার চেতনানাশক পদার্থ খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছিল। ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খেতে বাধ্য করা হতো বলেও সে দাবি করে। মাদরাসার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে ওই ছাত্রী। এই বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও দাবি করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে পরকীয়ার জেরে নিজের স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার প্রয়াত স্ত্রীর স্বজনেরা।

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।