শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,
শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটি

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটি

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটি

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। একাডেমিক ক্যালেন্ডার এবং সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয়ে বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে টানা ১০ দিন বা তারও বেশি দিন বন্ধ কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির নির্দিষ্ট সময়সূচিতে কিছুটা পার্থক্য থাকবে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ১০ দিনের অবকাশ পেতে পারেন।

সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ অক্টোবর রোববার থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এই ছুটির ঠিক আগে ও পরে শুক্র এবং শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে চার দিন। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ২৫ অক্টোবর রবিবারের লক্ষ্মীপূজার একদিনের নির্ধারিত ছুটি। ফলে ক্যালেন্ডারের স্বাভাবিক হিসাবে ১৬ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ১০ দিন পাঠদান বন্ধ থাকার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারের চাহিদার ভিত্তিতে এই সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় পুনর্বিন্যাস ঘটতে পারে।

কলেজগুলোতে ছুটির মেয়াদ সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ১৬ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কলেজ-৪ শাখার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে ১৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০ দিনের আনুষ্ঠানিক ছুটি রাখা হয়েছে। এই হিসাবের বাইরে মাঝখানের সাপ্তাহিক ছুটিগুলো বাদ রয়েছে। দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা এবং লক্ষ্মীপূজা মিলিয়ে এই ছুটির তালিকা প্রণয়ন করা হয়। এর ফলে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর এবং ৩০ ও ৩১ অক্টোবরের দুই দফার সাপ্তাহিক ছুটি সংযুক্ত হলে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিনের একটি দীর্ঘ অবকাশ পেতে যাচ্ছেন।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী সরকারি, বেসরকারি, এমপিওভুক্ত ও ইবতেদায়ি মাদরাসায় পূজা উপলক্ষে ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট তিন দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে এই ছুটির মেয়াদ সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। দেশের স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য জাতীয় শিক্ষাপঞ্জি সরাসরি বাধ্যতামূলক নয়। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব সিন্ডিকেট, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডারের আলোকে ছুটির দিন নির্ধারণ করে থাকে। ফলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজা উপলক্ষে ছুটির সময়সীমা কম বা বেশি হতে পারে এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারির পরই ছুটির সুনির্দিষ্ট মেয়াদ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সাথে আবাসিক হল খোলা রাখা বা ক্লাস-পরীক্ষার সূচিও স্বতন্ত্রভাবে নির্ধারিত হবে।

পূজার সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দেশের তফসিলি ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন সাধারণত বন্ধ থাকবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জরুরি শাখা বা বন্দর এলাকার শাখাগুলো সীমিত পরিসরে খোলা রাখা হতে পারে। পাশাপাশি এটিএম বুথ, পয়েন্ট অব সেল, কার্ড লেনদেন ও মোবাইল ব্যাংকিংসহ যাবতীয় ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম সার্বক্ষণিক চালু থাকবে।

সাধারণ ছুটির মধ্যেও দেশের জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। নাগরিক নিরাপত্তা ও জরুরি জনসেবা স্বাভাবিক রাখতে হাসপাতাল ও চিকিৎসা সেবাকর্মী, পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা, গ্যাস ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকর্মীরা ছুটির আওতামুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।