শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,
জ্বালানি বাজারে সংকট

জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করল চীন: এশিয়ায় সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করল চীন: এশিয়ায় সংকট

চলতি মাসে হংকং ও ম্যাকাও ছাড়া বিশ্বের অন্য সব অঞ্চলের জন্য পরিশোধিত তেলজাত পণ্য রপ্তানি আকস্মিকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের এই কঠোর পদক্ষেপে পুরো এশিয়ার জ্বালানি বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি ও তীব্র প্রভাব পড়তে পারে চীনা জ্বালানির প্রধান আমদানিকারক সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর হচ্ছে চীনা পেট্রলের একক বৃহত্তম আন্তর্জাতিক ক্রেতা। জ্বালানি তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের সরবরাহ করা তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সিঙ্গাপুর মোট ১৭ লাখ ৭২ হাজার টন বা প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল চীনা পেট্রল আমদানি করেছে। তবে এই পরিমাণ ২০২৫ সালের একই সময়ের আমদানি করা পরিমাণের তুলনায় প্রায় ৬২ শতাংশ কম।

সিঙ্গাপুরের তেল বাণিজ্যকেন্দ্রে হালকা জ্বালানি পণ্যের মজুত বর্তমানে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুর বিভিন্ন দেশ থেকে পেট্রল আমদানির পর তাতে নানা উপাদান মিশ্রণ করে পুনরায় অন্যান্য দেশে রপ্তানি করে থাকে, যার প্রধান গন্তব্য ইন্দোনেশিয়া। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পারতামিনার মুখপাত্র মুহাম্মদ ব্যারন জানিয়েছেন যে চীনের নতুন জ্বালানি রপ্তানি নীতির প্রতিটি পরিবর্তন তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি আরও জানান যে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের নানা উৎস মজুত রয়েছে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জৈব জ্বালানি উন্নয়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

চীনের রপ্তানি করা জ্বালানি সামগ্রীর সিংহভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে জেট ফুয়েল বা কেরোসিন। তবে এই বিমানের জ্বালানির সবচেয়ে বড় অংশ সরবরাহ করা হয় হংকংয়ে, যা বেইজিংয়ের নতুন আরোপিত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। কেপলারের পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি বছর চীনা জেট ফুয়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক হিসেবে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া এবং এর পরপরই রয়েছে ভিয়েতনাম, জাপান ও মালয়েশিয়া। অন্যদিকে ডিজেল ক্রয়ের ক্ষেত্রেও হংকংয়ের পর চীনের শীর্ষ ক্রেতা সিঙ্গাপুর এবং এর পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ।

নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ক্যানবেরা প্রশাসন।

অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে যে তাদের নিজস্ব ভাণ্ডারে বর্তমানে টানা ৪২ দিনের পেট্রল মজুত রয়েছে, যা তাদের জাতীয় জরুরি চাহিদার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। এছাড়া বিমানের জন্য প্রয়োজনীয় ২৯ দিনের জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পর্যায়ে পড়ে। সরকারি নথিতে আরও বলা হয়েছে যে অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসীমার পথে বর্তমানে ৪৫টি তেলবাহী জাহাজ রয়েছে এবং আগামী চার সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি লিটার জ্বালানি আসার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সিডনিভিত্তিক জ্বালানি বিশ্লেষক মুকেশ সাহদেভ উল্লেখ করেন যে অস্ট্রেলিয়ায় চীনের রপ্তানি স্থগিতের সরাসরি তাৎক্ষণিক প্রভাব কিছুটা সীমিত হতে পারে, কারণ তাদের আমদানিকৃত ডিজেলের প্রধান সরবরাহকারী দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ব্রুনাই ও মালয়েশিয়া। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে চীন বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমিয়ে দিলে সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটি ক্রেতার জন্যই জ্বালানি তেলের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাবে।

জেট ফুয়েলের আন্তর্জাতিক মূল্য ডিজেলের তুলনায় দ্রুতগতিতে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।

ফলে এই দুই প্রধান জ্বালানির মূল্যের ব্যবধান বেড়ে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ২ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। একই সময়ে ইউরোপের জ্বালানি বাজারেও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জোর কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছে। শুক্রবার অতিরিক্ত ডিজেল মজুত আন্তর্জাতিক খোলাবাজারে ছাড়ার বিষয়ে ফ্রান্সের একটি জরুরি প্রস্তাব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো। বিশ্বব্যাপী তেলের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নিজেদের কৌশলগত অতিরিক্ত মজুত বাজারে ছাড়ার তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দিনাজপুর টিভি ডট কম-এর আন্তর্জাতিক সংবাদে জানা গেছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স