শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ ভারত বিরোধ গড়াল প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ ভারত বিরোধ গড়াল প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে

ছবি: দিনাজপুর টিভি

দীর্ঘদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সতর্ক অবস্থানের পর অবশেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নীতিগত বিরোধগুলো প্রকাশ্যেই সামনে এনেছে ভারত। নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতি ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র সমালোচনা করে নয়াদিল্লির অনমনীয় মনোভাব তুলে ধরেছেন। সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে ওয়াশিংটনের আচরণ নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধনশীল ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করার বিষয়টিকে প্রকাশ্য সমালোচনায় আনা হয়েছে। এস জয়শঙ্কর জানান, কয়েক দশক ধরে একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের পরিকল্পিত সীমান্ত সন্ত্রাসের শিকার হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটে পর্যাপ্ত সংবেদনশীলতা দেখাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের আত্মকেন্দ্রিক বাণিজ্যনীতি বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোকে সংকটে ফেলছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

দ্বিপক্ষীয় ক্ষেত্রে বিরোধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বাণিজ্য। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে ভারতের অনুকূলে বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তবে ভারতীয় কৃষি খাতের নিজস্ব সুরক্ষাব্যবস্থা এবং উভয় দেশের মাথাপিছু আয়ের বিস্তর ব্যবধানের কারণে দীর্ঘ আলোচনার পরও চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

এদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের সুযোগ রেখে ট্রাম্প সম্প্রতি একটি আইনে স্বাক্ষর করেছেন। সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক অজয় বিসারিয়া জানান, ভারতে এমন ধারণা জোরদার হয়েছে যে মার্কিন অন্যায্য চাপের মুখে সরকার এতদিন নীরব ছিল, যা মোদি প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।

কাশ্মীর ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের দাবিও সম্পর্কের আরেকটি বড় ক্ষতের কারণ। গত বছরের মে মাসে কাশ্মীরে হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সংঘটিত চার দিনের যুদ্ধ থামাতে নিজের একক ভূমিকার দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। তবে ভারতের অবস্থান দ্বিপক্ষীয় হওয়ায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতার দাবি নয়াদিল্লিকে ক্ষুব্ধ করেছে। পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়ায় এবং ট্রাম্পের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলায় নয়াদিল্লির উদ্বেগ বহুগুণ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন ভারতীয় কর্মীদের জন্য অপরিহার্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান কড়াকড়ি এবং ফি বৃদ্ধিও বিরোধ উসকে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, ট্রাম্পের অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতির কারণে নয়াদিল্লি সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে ধৈর্যের নীতি বেছে নিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা