সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দেশটির বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। বুধবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের দীর্ঘ বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অবিলম্বে পদত্যাগ না করলে রাজপথের কর্মসূচি আরও তীব্র করার বার্তা দেন তিনি। বক্তব্য দেওয়ার সময় মমতার পাশে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। বক্তব্য শেষে তিনি মমতার পিঠে হাত রেখে সহমর্মিতা জানান এবং দুই নেত্রী করমর্দন করেন।
ভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে মমতা দাবি করেন, বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী অনিয়ম ঘটিয়ে ভোটারদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে ভোট পরিচালনার ত্রুটি নিয়ে আগে থেকেই কমিশনে নালিশ জানানো হয়েছিল। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারের অপব্যবহারের মাধ্যমে ফল প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান এই নেত্রী।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে সদস্যদের পারস্পরিক মতপার্থক্য সংক্রান্ত একটি গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই বিরোধীদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। কমিশন অবশ্য দাবি করেছে, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিনিময় বা দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিদ্যমান বিধি মেনেই গৃহীত হয়। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে তোলা অনিয়মের সব অভিযোগ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।
নির্বাচন কমিশন ঘেরাওসহ আগামী দিনগুলোতে একাধিক রাজপথের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে বিরোধী শিবির। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন এলাকায় `গণতন্ত্র বাঁচাও` পদযাত্রা এবং জেলা প্রশাসনের কার্যালয়গুলোর সামনে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা দিল্লিতে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে পদযাত্রা করবেন।
অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দেশের তরুণ সমাজ, বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন এবং জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর সব স্তরের কর্মীদের সম্পৃক্ত করে দেশজুড়ে ধারাবাহিক সমাবেশের আয়োজন করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন