অক্টোবর ২, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই দফা প্রাণঘাতী রাসায়নিক প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের শারীরিক অবস্থা গুরুতর রূপ নিয়েছে। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন। ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে ১৯৯৬ সালে কলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তিনি এখনও বেঁচে আছেন। পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পিভি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাংবাদিকদের জানান, তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বেঁচে আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনজীবীরা এখন তার মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন বা অন্য কোনো শাস্তিতে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইককে পেন্টোবারবিটালের দুটি পৃথক প্রাণঘাতী মাত্রা প্রয়োগ করা হয়। চিকিৎসকদের মাধ্যমে শরীরে রাসায়নিক প্রবেশের পরও তিনি জীবিত থাকায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে ১৮ বছর বয়সে তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের আদেশ বহাল রাখলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। স্লেমারের মা মে মার্টিনেজ এই প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে চালানো হয়েছিল। স্পিভি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দল প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পাইকের শরীরে একটি আইভি লাইন স্থাপনের চেষ্টা করে। কেবল তার বাঁ হাতেই অন্তত সাতটি সূঁচ ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে একটি সূঁচ বাঁকা অবস্থায় শরীর থেকে বের করতে দেখা যায়। দ্বিতীয় দফা প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়ার পরও তিনি শ্বাস নিচ্ছেন নিশ্চিত হওয়ার পর উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের একটি বন্ধ পর্দার পেছনের অন্ধকার কক্ষে সরিয়ে নেওয়া হয়। পর্দার ওপাশে কোনো চিকিৎসাকর্মী সেবা দেওয়া শুরু করেছিলেন কি না সে বিষয়ে পর্যবেক্ষকদের কিছু জানানো হয়নি।
পাইকের অপর আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল জানান, তারা আরও আইনি পদক্ষেপ নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। একই সঙ্গে পাইক যাতে সুস্থ হতে পারেন এবং নিজস্ব মতামত প্রকাশের সুযোগ পান তা নিশ্চিত করার দাবি তাদের। আদালতের নথিতে আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, এই ব্যর্থ প্রক্রিয়া পাইকের জন্য চরম যন্ত্রণা তৈরি করেছে এবং নিষ্ঠুর ও অস্বাভাবিক শাস্তি থেকে মুক্ত থাকার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বিল লি এই ব্যর্থতার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অঙ্গরাজ্যের নাগরিকদের এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ জানার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে স্বাধীন তদন্তটি কার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। টেনেসির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তদন্তের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে।
টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন তাদের অবস্থান তুলে ধরে জানিয়েছে, তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের অনুমোদিত আইনসম্মত প্রোটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করেছে। সংস্থাটির দাবি, ব্যবহৃত রাসায়নিকটি এর আগে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল এবং নির্ধারিত নিয়মের বাইরে তাদের অতিরিক্ত কিছু করার সুযোগ ছিল না।
এই ঘটনা অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতেও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ব্যর্থতার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চেয়ার চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেরি গ্রিন এই প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, তিনি নির্বাচিত হলে অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দেবেন।
চলতি ২০২৬ সালে টেনেসিতে কোনো বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দ্বিতীয় ব্যর্থতার ঘটনা এটি। এর আগে গত মে মাসে টনি কারাথার্স নামের এক বন্দির শরীরে উপযুক্ত শিরা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে তার মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন