অক্টোবর ২, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই উড়োজাহাজে সহকারী পাইলটের ছুরিকাঘাতের ঘটনা নিয়ে তদন্ত এখনো অস্পষ্ট থাকলেও ঘটনাটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে। হামলার নেপথ্যে সহকারী পাইলটের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা তিনি কোনো নির্দিষ্ট শক্তির নির্দেশে কাজ করেছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার ঘটনাকে ঘিরে তেল আবিবে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।
ঘটনার পরপরই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলাকে ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা ও ইসলামপন্থি উগ্রবাদের সাথে যুক্ত করার তৎপরতা শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, সহকারী পাইলট ইসলামপন্থি উগ্রবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন। একই সাথে তিনি ইরান ও দেশটির মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য ভূমিকার ইঙ্গিত দিলেও স্বীকার করেন যে হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আরও সময় লাগবে।
আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে এমন নিরাপত্তা সংকটকে সামনে এনে নেতানিয়াহু নিজের অবস্থান পোক্ত করতে চাইছেন বলে দাবি সমালোচকদের। সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ড্যানিয়েল লেভি মনে করেন, এই ঘটনা ইরানের সাথে উত্তেজনা বাড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে দিতে পারে। লেভির ভাষ্যমতে, তেহরানের সাথে কোনো যোগসূত্র প্রমাণিত হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর অবস্থান শক্ত হবে, তবে এটি বাস্তবে তার ভোটব্যাংকে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত নয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আহরন ব্রেগম্যানও উল্লেখ করেছেন, এই পরিস্থিতি থেকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ঘটনা নেতানিয়াহুর জন্য নিশ্চিত কোনো রাজনৈতিক সাফল্য বয়ে আনবে না, বরং এটি বিমানবন্দর ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকেই প্রকাশ্যে এনেছে।
নেতানিয়াহুর দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি জানান, ঘটনার আগের রাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে বিমান ছিনতাই বা এ ধরনের হামলার কোনো পূর্ব সতর্কতার কথা জানানো হয়নি। ফলে নেতানিয়াহুর পূর্ববর্তী নিরাপত্তা সতর্কবার্তার সাথে এই বিমান হামলার আদৌ কোনো বাস্তব সংযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘটনাটিকে একটি সন্ত্রাসী হামলার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সুনির্দিষ্ট কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া এক ভাষণেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণার অভিযোগ তুলেছিলেন নেতানিয়াহু। সে সময় তিনি আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও বিরোধিতাকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় সংকট বলে দাবি করেছিলেন। তবে ফ্লাইদুবাই বিমানের ঘটনার সাথে তার পূর্বের বক্তব্যের কোনো প্রমাণযোগ্য ভিত্তি এখনো মেলেনি। তদন্তের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে পুরো ঘটনার সত্যতা, যা ইতিমধ্যে বিমান নিরাপত্তা ও ইসরায়েলি রাজনীতিতে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন