শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

স্বাদ বাড়াতে বিরিয়ানিতে কাপড়ের রং ও ট্যানারির লবণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ১০:২২ এএম

স্বাদ বাড়াতে বিরিয়ানিতে কাপড়ের রং ও ট্যানারির লবণ

রাজধানীর অলিগলিতে বিক্রি হওয়া জনপ্রিয় খাবার বিরিয়ানিতে স্বাদ ও রং বাড়াতে মেশানো হচ্ছে কাপড়ের রং, ক্ষতিকর কেওড়া জল এবং ট্যানারিতে গরুর চামড়ায় ব্যবহৃত লবণ। সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে এসব ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। পুরান ঢাকার মসলার বাজারে বিরিয়ানির উপকরণ কিনতে গেলে দেখা যায়, নিষিদ্ধ কেওড়া জল প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একে খাবারের জন্য অনুপযোগী ঘোষণা করলেও এর বিক্রি থামেনি।

রঙের ক্ষেত্রে দেখা যায়, খাবারে ব্যবহারের জন্য ফুড গ্রেড রঙের দাম প্রায় এক হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এর বদলে বিরিয়ানির দোকানগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দামের কাপড়ের রং, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‍‍`কস্তুরি রং‍‍`। বিক্রেতারা স্বীকার করেছেন, নামিদামি বিরিয়ানির দোকানগুলোও এই রঙের ক্রেতা।

লবণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বিরিয়ানির স্বাদ বাড়াতে এবং খরচ কমাতে সাধারণ লবণের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে মোটা লবণ। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, এই লবণের একটি বড় অংশ আসে ট্যানারি থেকে। গরুর চামড়া সংরক্ষণে ব্যবহারের পর ঝাড়াই করা সেই নোংরা লবণ পরিষ্কার করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। প্যাকেটজাত লবণের দাম যেখানে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, সেখানে এই ঝাড়াই করা লবণ পাওয়া যায় মাত্র ১৬ টাকায়।

পুরান ঢাকার এক রেস্তোরাঁয় সরেজমিনে পোড়া তেল, কেওড়া জল এবং সেই মোটা লবণের সন্ধান পাওয়া যায়। এক বিক্রেতা দাবি করেন, এই লবণ মাছ ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আরেক বাবুর্চি স্বীকার করেন, খাবারে এই মোটা লবণই ব্যবহার করা হয়। এই ধরনের ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত খাবার দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ভয়াবহ।

এক পুষ্টিবিদ বলেন, "এসব মোটা লবণে আয়োডিন থাকে না। অথচ প্রথম ছয় বছরে মানুষের মস্তিষ্কের ৯৫ শতাংশ বিকাশ ঘটে। আয়োডিনের অভাবে শিশুদের মেধা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।" তিনি আরও জানান, ইদানীং ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যাচ্ছে, যার অন্যতম কারণ এই ধরনের লবণ গ্রহণ। কম দামে মুখরোচক খাবার পরিবেশনের নামে বিরিয়ানিতে এসব বিষাক্ত উপাদান মেশানোর ফলে ভোক্তারা অজান্তেই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।