অক্টোবর ১, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি দায়িত্বে না থাকলে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মতো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব আজ পৃথিবীর মানচিত্রে টিকে থাকত না। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাময়িকী টাইমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রিয়াদের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক হামলায় অংশ নিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের একটি প্রস্তাব তিনি সম্প্রতি ফিরিয়ে দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে এমন খোলামেলা মন্তব্য নতুন কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অত্যন্ত চমৎকার এবং তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবকে পূর্ণ প্রতিরক্ষা সুরক্ষা দিয়ে এসেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি যদি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেতৃত্ব না দিতেন, তবে আজ সৌদি আরব টিকে থাকত না এবং ইসরায়েলকেও মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হতো।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি ক্রাউন প্রিন্সকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন এবং তাদের মধ্যকার বোঝাপড়া সবসময়ই ঘনিষ্ঠ ছিল। তবে নিজের সক্রিয় অবস্থানের কারণেই এই দুই দেশের পাশাপাশি আরও বহু রাষ্ট্র ভৌগোলিক নিরাপত্তা পেয়েছে বলে তিনি পুনরায় দাবি করেন। যদিও দীর্ঘদিনের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক অংশগ্রহণের সৌদি অনুরোধ কেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
আসন্ন ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পুনর্বার প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান কি না, সে বিষয়ে কোনো সরাসরি সমর্থনের কথা জানাননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয় বরং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে সুসংহত রাখাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন যে অতীতে তেল আবিবের পক্ষে গৃহীত বিভিন্ন বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণে ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
নেতানিয়াহুর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, এই সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনি নেতিবাচক কিছু শোনেননি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে কখনো রাজনৈতিকভাবে খাটো করে দেখা উচিত হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। ট্রাম্প স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতে বহুবার নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি বারবার প্রত্যাবর্তনের নজির গড়েছেন। একইভাবে তাকে নিজেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবমূল্যায়ন করেছেন উল্লেখ করে তিনি নেতানিয়াহুর শক্ত অবস্থানকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন