বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
দুর্নীতিতে কড়া হুঁশিয়ারি

অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে শিক্ষা দেওয়া হবে: ডেপুটি স্পিকার

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে শিক্ষা দেওয়া হবে: ডেপুটি স্পিকার

 ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অতীতে কিছু অনিয়ম ও ভুলভ্রান্তি ছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সেগুলো পুরোপুরি সংশোধন করে নতুনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাজ করতে করতেই প্রশাসনিক দক্ষতা তৈরি হয় এবং পূর্ববর্তী ভুলের পুনরাবৃত্তি আর প্রত্যাশিত নয়। যেসব সরকারি কর্মকর্তা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে ইতিবাচক শিক্ষা গ্রহণ করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশের আটটি উপজেলায় একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির কেন্দ্রীয় উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় মাঠের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কায়সার কামাল উল্লেখ করেন, দেশব্যাপী নতুন কৃষক কার্ড বিতরণের ঐতিহাসিক পদক্ষেপে দুর্গাপুর উপজেলাও গর্বিত অংশীদার হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে এই কার্যক্রমে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম ধরা পড়েনি। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণে সরকার শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত ও আপসহীন নীতি অনুসরণ করছে।

দল, মত, জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি প্রকৃত প্রান্তিক নাগরিকের কাছে এই সুবিধা পৌঁছাতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং তৃণমূলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সবাইকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সজাগ থাকতে হবে। বিগত দেড় দশকের পুরনো প্রশাসনিক সংস্কৃতির সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন অনুদান বরাদ্দ হলেও অনেক সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে তা জানতে পারেন না। বরাদ্দকৃত জনকল্যাণমূলক অনুদানের তথ্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অবগত করা স্থানীয় মাঠ প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব।

দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব কর্মকর্তা এই দায়িত্ব পালনে ব্যত্যয় ঘটাবেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হবে। এমনকি প্রয়োজনে সচেতন সাধারণ জনগণও তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারবেন।

এর আগে স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন কায়সার কামাল। তিনি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে তাগিদ দিয়ে বলেন, অতীতের বিচ্যুতি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হলেও কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক যদি অতীত থেকে সচেতন না হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা সদর-বারহাট্টা আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক এবং কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।

এ সময় নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরুসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।