বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে জবাব পেজেশকিয়ানকে চিঠি দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে জবাব পেজেশকিয়ানকে চিঠি দিল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত ও অচলাবস্থা নিরসনে ইরান সরকারের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক জবাব পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তোলা প্রস্তাব প্রকাশ্যে সরাসরি নাকচ করলেও কাতারের মধ্যস্থতায় পৌঁছানো আনুষ্ঠানিক এই প্রত্যুত্তরের অপেক্ষায় ছিল তেহরান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেরিত ওই গোপনীয় চিঠিটি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের হাতে তুলে দেন। 

ইরান সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হলেও চিঠির ভেতরে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ঠিক কী বার্তা বা শর্ত দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক যোগাযোগের মাঝেও হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূচনা ঘটেছিল। 

এরপর থেকে ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে এবং বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের অত্যন্ত সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিতে সাত দফা শর্ত পেশ করেছিল তেহরান। ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, বিভিন্ন দেশে অবরুদ্ধ থাকা ইরানি রাষ্ট্রীয় অর্থ ফেরত দেওয়া, তাদের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ তুলে নেওয়া।

যদিও গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের দেওয়া এই সাত দফা রূপরেখার তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতা করেছিলেন, তবে কাতার ও ওমানের সক্রিয় কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যকার পর্দার অন্তরালের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জলসীমায় ব্যাপক মাত্রার সম্মুখ সংঘাত আগের চেয়ে কিছুটা কমে আসলেও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ছোট কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ দেখতে পেলেই তাতে আক্রমণ চালাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বা রেভল্যুশনারি গার্ডস।

অন্যদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ ধরে রাখতে ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর নতুন করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যারা ইরানকে যেকোনো প্রকার সহায়তা প্রদান করবে, তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি বহাল রেখেছে হোয়াইট হাউস।