সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র গণআন্দোলনের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডির এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এদিন দুপুরে ২০টি বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাকে গ্রেপ্তারের দাবি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ছয় দফা আন্দোলনের কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে রাজপথে নামছে ভারতের বিরোধী জোট। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীর দিন থেকে বিরোধীরা দেশব্যাপী ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি শুরু করবে, যার আওতায় ভারতের প্রতিটি জেলায় বিরোধী দলগুলোর যৌথ প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বিতীয় ধাপে আগামী ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তর অভিমুখে পদযাত্রা করবেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা; লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যরা সমন্বিত মিছিল নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশন দপ্তরে যাবেন। তৃতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা দেশটির রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাতের আনুষ্ঠানিক সময় চাইবেন। চতুর্থ কর্মসূচির আওতায় ভারতের পাঁচটি প্রধান মহানগরে ভোটচুরি ইস্যুতে বিরোধীদের পাঁচটি বৃহৎ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্চম কর্মসূচি হিসেবে আগামী নভেম্বরের শুরুতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি মেগা সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষ বিরোধী নেতৃত্ব মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। আর ষষ্ঠ কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও সাংঘর্ষিক ভূমিকা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় বিশাল অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি ‘ভ্যানিশ কুমার’ আখ্যা দেন এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার দায়ে তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন। এই দাবি মানা না হলে বিরোধীরা সর্বাত্মক গণআন্দোলনের পথে অগ্রসর হবে বলে তিনি পরিষ্কার বার্তা দেন।
দিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল কিংবা ডিএমকের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। তবে সেই অনুপস্থিতি সত্ত্বেও সংবাদ সম্মেলনে সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধীদের ঐক্যের বার্তা জোরদার করেন মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি রাষ্ট্রযন্ত্র ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোট চুরি করে জয়ী হচ্ছে এবং রাহুল গান্ধীই সবার আগে এই প্রক্রিয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছিলেন। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে অনুগত পুতুলের মতো পরিচালনা করছে বলেও তিনি তীব্র আক্রমণ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন