অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে ককরোচ জনতা পার্টির দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে আন্দোলনরত তরুণ নেতাদের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তারা।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, তোমাদের দিদি তোমাদের পাশে আছে, আজও, চিরকাল। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোর আহ্বান জানান তৃণমূল নেত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো ভয়ভীতি বা প্রশাসনিক চাপের মুখে সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়। তিনি অভিযোগ তোলেন যে দেশের নতুন একটি প্রজন্মকে সার্বক্ষণিক ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নাগরিকদের আটকের পদক্ষেপে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে অভিষেক লেখেন, তথাকথিত বড় জাতীয়তাবাদীরা এখন নিজ দেশের সীমানায় তিরঙ্গা পতাকা ওড়ানোর অপরাধে সাধারণ ভারতীয়দের গ্রেপ্তার করছে। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কাছে সেটিই নাকি প্রকাশ্য শান্তিভঙ্গের কারণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের সীমানা প্রাচীর ও প্রবেশদ্বার টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন বিক্ষোভকারী নেতারা।
বিক্ষোভের সময় তাঁদের হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ছিল। সেখান থেকেই সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। তাদের সাথে থাকা অজিঙ্ক শিণ্ডে নামের আরেক নেতাকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে প্রেরণের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেন।
এই গ্রেপ্তার অভিযানের বিরুদ্ধে আগেই সরব হয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা কখনোই কোনো ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে না। তরুণ অধিকারকর্মীদের এভাবে টেনেহিঁচড়ে কারাগারে বন্দি করা চরম কাপুরুষোচিত আচরণ।
রাহুল গান্ধীর মতে, শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ ও সাংবাদিকরা কেবল তাদের ন্যায্য সাংবিধানিক অধিকারের দাবি তুলছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক পরিচয় ভিন্ন হলেও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সুরক্ষার প্রশ্নে পুরো বিরোধী শিবিরের লক্ষ্য অভিন্ন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে যন্তর মন্তর ঐতিহাসিক কাল থেকেই সাধারণ জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন