অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিক্ষোভ সমাবেশ করার পথ উন্মুক্ত হলো অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)। দলটির ঘোষিত এই কর্মসূচিতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। এর ফলে বিরোধী দলের আন্দোলন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে নতুন করে আইনি জটিলতা ও চাপে পড়েছে দিল্লি পুলিশ।
দিল্লি হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিতিন বাসুদেব সাম্ব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বেঞ্চ এক লাইসেন্সপ্রাপ্ত হকারের দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানিকালে এই পর্যবেক্ষণ দেন।
আবেদনকারীর পক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরে বলা হয়, উৎসবের এই ভরা মৌসুমে মধ্য দিল্লিতে রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে পুনরায় দোকানপাট ও ব্যবসা বন্ধ থাকলে সাধারণ ব্যবসায়ী ও হকারদের পথে বসতে হবে। শীর্ষ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে সেন্ট্রাল পার্কের এই সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।
শুনানিতে দিল্লি প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে সিজেপির এই ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় বেশ কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে গ্রহণ করেছে। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত কর্মসূচিটির ওপর আগাম কোনো স্থগিতাদেশ বা নিষেধাজ্ঞা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লির ভোটার তালিকায় গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে শত শত নেতাকর্মী ও প্রতিবাদীকে পথ থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
একই ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।
দিল্লির রাজপথে চলমান এই দুটি সরকারবিরোধী সমান্তরাল আন্দোলন ক্রমশ এক মোহনায় মিলিত হচ্ছে।
শুরুর দিকে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের আন্দোলন থেকে দৃশ্যত কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছিল। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার তারাও সেন্ট্রাল পার্কে সিজেপির ডাকা শুক্রবারের এই বিক্ষোভে সরাসরি অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে শুক্রবারের কর্মসূচিতে প্রতিটি প্রতিবাদকারীকে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে দিল্লির রাজপথ থেকে প্রতিবাদী তরুণদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি যেসব রাজনৈতিক নেতা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদেরও অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে।
দিল্লির নির্বাচনী বিতর্ক গড়িয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতেও।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতাদের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের প্রতি আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট।
এর পাশাপাশি গত ১২ অক্টোবর বারাকাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে বিরোধী দলগুলোর আয়োজিত পদযাত্রার ঘটনায় কড়া অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ও স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘বিচার বিভাগকে কোনোভাবেই ভয় দেখিয়ে নতিস্বীকার করানো যাবে না।’ বিরোধী জোটের ওই পদযাত্রার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি পৃথক পিটিশনের ওপর শুনানি নিয়ে রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধেও রুল ও নোটিশ জারি করেছেন দেশের শীর্ষ আদালত।
একই সঙ্গে ওই দিন আদালত চত্বর ও সংলগ্ন সড়কে সংঘটিত আন্দোলনের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন