সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
জাতীয় পর্যায়ে এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে কোনো চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি করছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। একই সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও যেসব অঞ্চলে ঘাটতি বা অস্বাভাবিক মূল্যের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করে প্রত্যক্ষ প্রমাণসহ দ্রুত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর আদেশ জারি করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয় থেকে দেশের সকল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি আয়োজিত এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভায় জ্বালানি মন্ত্রী এই কড়া নির্দেশনা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দেশে আমদানিকৃত ও মজুতকৃত এলপিজির কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। এরপরও তৃণমূলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংকট ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির ধারাবাহিক অভিযোগ কেন্দ্রে আসছে। কোথায় ঠিক কী কারণে সরবরাহ কম, কোন কোন সিন্ডিকেট অতিরিক্ত দাম আদায় করছে এবং এর পেছনে কোনো অসাধু মহলের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা আছে কি না—তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ভোক্তাদের জিম্মি করা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জ্বালানি মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাপ্তরিক দরের চেয়ে এক পয়সাও বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসকদের পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পর শীর্ষ আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট বাজার অংশীজনদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠক করে সরবরাহ ব্যবস্থা সংস্কারের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যেসব নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় প্রকৃত সরবরাহের অপ্রতুলতা ধরা পড়বে, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বণ্টন বাড়ানো হবে উল্লেখ করে তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ও সতর্ক নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ দেন। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও প্রক্রিয়াজাত জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব সম্প্রতি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমদানিকারকরা জাতীয় সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করে আসলেও দেশের প্রত্যন্ত ও নগর এলাকার খুচরা বাজারে চড়া মূল্যে এলপিজি বিক্রির প্রমাণ মিলছে।
এমনকি রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বারো কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই বাস্তবতায় জাতীয় সরবরাহ শৃঙ্খলের কোন ধাপে সংকট সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে, তা সমূলে চিহ্নিত করতেই নীতিনির্ধারণী এই পদক্ষেপ নিল সরকার।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন