সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের সকল সেনা প্রত্যাহার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে বর্তমানে ইরাকের ভূখণ্ডে মার্কিন জোটের কোনো সেনা সদস্য আর অবস্থান করছেন না। নির্ধারিত সময়সীমার একদিন আগেই ঘাঁটিগুলো ফাঁকা করে সরে গেছে মার্কিন বাহিনী।
বুধবারের মধ্যে এই সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার প্রাথমিক সূচি নির্ধারিত ছিল। তবে সামরিক কৌশলগত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে আগেই নিজেদের সর্বশেষ অবস্থানগুলো থেকে সদস্যদের ফিরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপকে নিজেদের দীর্ঘ লড়াইয়ের ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে মূল্যায়ন করছে ইরান সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।
তেহরানের পক্ষ থেকেও এই সেনা প্রত্যাহারকে ভূরাজনৈতিক ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চল ছাড়তেই হবে, তবে ইরান ও তার প্রতিবেশীরা স্থায়ীভাবে এখানেই অবস্থান করবে। একই কমিশনের উপপ্রধান আমির হায়াত মোঘাদ্দামও পদক্ষেপটিকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেন, বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি বন্ধ হলেই কেবল ইরাকে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এদিকে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে যে ইরাকের অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। সম্প্রতি সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পেছনে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। অবশ্য বাগদাদ প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলার আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানিয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন