সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল প্রশাসনিক ও কারিগরি দিক বাস্তবায়নের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে বর্তমান সরকার।
নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত তিস্তা নদীসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রায় ২৩ কোটি টাকার একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ তিস্তার সঙ্গে জড়িত। প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরূপণের লক্ষ্যে এই সমীক্ষা পরিচালিত হবে। সরকারের এই উদ্যোগ পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদন পেলে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে। এর ফলে মেগা প্রকল্পটি স্বচ্ছ ও টেকসইভাবে বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য উত্তরাঞ্চলের স্থায়ী বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই মহাপরিকল্পনার আওতায় মোট ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা এবং ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কারকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ১১০ কিলোমিটারজুড়ে নদী ড্রেজিং করে নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণে ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ শক্তিশালী বাঁধ এবং ওই বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সমন্বিত নদীশাসনের মাধ্যমে নদীসংলগ্ন প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার করে কৃষি ও শিল্পায়নের উপযোগী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন