রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

রংপুরের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নয় মানুষের অধিকার: আজহার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

রংপুরের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নয় মানুষের অধিকার: আজহার

ছবি: দিনাজপুর টিভি

রংপুর বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির করুণা নয়, বরং এটি এ অঞ্চলের বঞ্চিত কোটি মানুষের সাংবিধানিক ও ন্যায্য অধিকার বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক এবং রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর মহানগর কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই বক্তব্য দেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক কার্যকর সংস্কার নিশ্চিতকরণ এবং উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বঞ্চনা দূর করার জন্য জাতীয় সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ঐতিহাসিক বৈষম্য দূর করতে উত্তরাঞ্চলের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দের দাবি তোলেন তিনি। তিনি বলেন, বিগত ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শুরুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতভাবে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সনদ অনুযায়ী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে যে আইনি ও রাজনৈতিক বিরোধের জন্ম দেওয়া হয়েছে, তা সংস্কার প্রক্রিয়াকে মারাত্মক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দল-মত নির্বিশেষে সমতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী মতাবলম্বীদের দমন করতে অতীতের মতো এখনও প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থেকেও জনরোষের মুখে কোনো কর্তৃত্ববাদী সরকার টিকে থাকতে পারেনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বর্তমান সরকারকেও জনআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করার তাগিদ দেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি আশ্বাসের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের বহিরাগত বা বিদেশি চাপের মুখে তিস্তা প্রকল্প থেকে পিছু হটলে রংপুরবাসী তা কখনোই মেনে নেবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান সমস্যা অর্থ বা সম্পদের ঘাটতি নয়, বরং মূল সমস্যা হলো লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অযোগ্য নেতৃত্ব। শুধু উন্নত এলাকার সমান বরাদ্দ নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে তুলতে রংপুর বিভাগের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক বাড়তি ও ইনসাফপূর্ণ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

এই সংকট নিরসনে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির দ্বিতীয় প্রকল্প গ্রহণ, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি মহিলা কলেজ স্থাপন, নারীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রংপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শিল্পে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রেলের গতি ও ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং রংপুর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক ভারী শিল্পকারখানা গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন। তিনি জানান, মধ্যপাড়া খনির দ্বিতীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে পাথরের আমদানি নির্ভরতা কমে স্থানীয় অর্থনীতিতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন ফোরামের সদস্য সচিব ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের আমীর এটিএম আজম খান। এছাড়া অংশ নেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতীফ, নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম, গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ।