শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট: ত্রাণমন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৯, ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট: ত্রাণমন্ত্রী

শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের চব্বিশের ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন চূড়ান্ত টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছেছিল বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশমুখে শহীদ আবু সাঈদ তোরণ নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, চব্বিশের উত্তাল গণ-অভ্যুত্থানে শুধু আবু সাঈদ নন, পুরো দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন তরুণ, সাধারণ শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের এই মহান আত্মত্যাগের ফলেই দীর্ঘদিনের চেপে বসা একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের চূড়ান্ত পতন নিশ্চিত হয়েছে। রংপুরের মাটির সাহসী সন্তান আবু সাঈদকে নিয়ে উত্তর জনপদের প্রতিটি মানুষ আজ অন্তরে গভীর গর্ববোধ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই তোরণ নির্মাণের উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আবু সাঈদের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।

জুলাইয়ে আত্মদানকারী শহীদদের স্বপ্নের আলোকে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বর্তমান সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রংপুর অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের প্রাণপ্রকৃতি বাঁচানোর দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এ প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, সরকার কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলকে পিছিয়ে বা বৈষম্যের মধ্যে রাখতে চায় না। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি রংপুর সিটি করপোরেশনকে বড় ধরনের আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা স্থাপন করে স্থানীয় বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বিএনপিকে জড়িয়ে রাজনৈতিকভাবে নানামুখী বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বাস্তব চিত্র হলো, সনদটি কার্যকরের লক্ষ্যে একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিদেরও যথাযথ স্থান দেওয়া হয়েছে। সনদের যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো উন্মুক্ত আলোচনার টেবিলে সমাধান করতে চায় সরকার। যেসব বিষয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে।

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মাদকাসক্তি আজ কোনো নির্দিষ্ট এলাকার নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে, যার মূল শিকার হচ্ছে তরুণ সমাজ। এ সংকট মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লালমনিরহাটে এসে মাদকবিরোধী আন্দোলনের এই কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগটি সফল হলে পরবর্তীতে একই মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। শুধু পুলিশ প্রশাসন বা আইন প্রয়োগ করে অপরাধ দূর করা অসম্ভব, এর জন্য সর্বস্তরের নাগরিকদের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।