বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

আবু সাঈদ হত্যায় ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ১১ জন স্থায়ী বহিষ্কার

রাকিবুল হাসান মুন্না

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

আবু সাঈদ হত্যায় ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ১১ জন স্থায়ী বহিষ্কার

ছবি: দিনাজপুর টিভি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় ১১ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর আদেশের প্রেক্ষিতে এই চরম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। একই সভায় যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিন শিক্ষকের পদাবনতি কার্যকর করা হয়েছে। অনুমোদন পেয়েছে নির্মাণাধীন একটি ছাত্রী হলের নতুন নাম।

বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপাচার্য ও সিন্ডিকেট সদস্যরা সভার সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। বহিষ্কৃতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষক ও আটজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষকেরা হলেন গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।

বহিষ্কৃত আট কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকাও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে আছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান এবং সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পরই বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হয়। এরপরই বিধি মোতাবেক তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। রংপুরে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখভাগে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। 

দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা সেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ গড়ায়। যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে সভায় তিন শিক্ষকের পদাবনতি চূড়ান্ত করা হয়। পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামকে অধ্যাপক থেকে নামিয়ে সহযোগী অধ্যাপক করা হয়েছে। ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেনকে নামানো হয়েছে প্রভাষক পদে। 

এছাড়া দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলামকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নিচে নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনমন দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছাত্রী হলটির নাম ‍‍`বেগম খালেদা জিয়া হল‍‍` রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সিন্ডিকেট। প্রশাসনিক ও একাডেমিক ক্ষেত্রের আরও কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়ে ১২৩তম সিন্ডিকেট সভার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।