বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটকে ছুরি তবুও রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

ইসরায়েলগামী বিমানে পাইলটকে ছুরি তবুও রক্ষা পেলেন ১৮০ যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মাঝআকাশে সহকারী পাইলটের আকস্মিক ছুরিকাঘাতের পর ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট। বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা অপর দুই পাইলটের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপে এক ভয়াবহ বিমান বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছেন আরোহীরা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩। মাঝআকাশে রক্তক্ষয়ী এই ঘটনার পর তাবুক বিমানবন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে আহত দুই পাইলটকেই দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে বিমানে থাকা ১৮০ জন যাত্রী ও কেবিন ক্রুর প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদে রয়েছেন।

যাত্রী হিসেবে থাকা দুই পাইলটের দক্ষতায় নিশ্চিত বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যে জানা গেছে, মধ্যরাতে বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়নরত অবস্থায় মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে দ্রুত ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ ফুটে চলে আসে। মারাত্মক এই উচ্চতা হ্রাসের পর ককপিট থেকে প্রথমে ৭৭০০ স্কোয়াক কোড পাঠিয়ে সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়। তবে কয়েক মিনিটের মাথায় সংকেত বদলে ৭৫০০ কোড পাঠানো হয়, যা উড়োজাহাজ ছিনতাই কিংবা বেআইনি হস্তক্ষেপ নির্দেশ করে। বিমানে বহু ইসরায়েলি নাগরিক থাকায় এই সংকেত পাওয়ার সাথে সাথে তেল আবিব থেকে আকাশে যুদ্ধবিমান ওড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে উড়োজাহাজটি নির্ধারিত গতিপথ বদলে জর্ডানের আকাশসীমা হয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ককপিটের ভেতরে দুই বৈমানিকের মধ্যে মারাত্মক মারামারি বাধে বলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী যাত্রী জানান, উড়োজাহাজের ভেতরে হঠাৎ তীব্র চিৎকার শুনে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ককপিটের দরজা খুললে ভেতরে রক্ত এবং পাইলটের শার্ট ভিজে থাকতে দেখা যায়। ভাঁজ করা ছুরি দিয়ে অপর পাইলটকে আঘাত করা হয়েছিল এবং ক্রুদের সাথে ইসরায়েলি যাত্রীরা এগিয়ে এসে হামলাকারীকে চেপে ধরেন। যাত্রীদের আসনে থাকা অন্য দুজন পাইলট দ্রুত ককপিটে ঢুকে বিমানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন এবং শান্তভাবে বিমানটিকে অবতরণ করান। প্রাথমিকভাবে দুই বৈমানিকের ব্যক্তিগত বিরোধের কথা বলা হলেও ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বা আত্মঘাতীভাবে বিমান বিধ্বস্ত করার অপচেষ্টা হিসেবেও খতিয়ে দেখছে।